কালীগঞ্জে অতিবৃষ্টির ধকল কাটিয়ে ৯০ ভাগ ধান ঘরে তুলেছেন কৃষকেরা

Slider কৃষি, পরিবেশ ও প্রকৃতি

ক্যাপশন( গাজীপুরের কালিগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠান—ছবি সংগ্রীহিত)

গাজীপুর: গাজীপুরের কালিগঞ্জে অতিবৃষ্টির ধকল কাটিয়ে ৯০ ভাগ ধান ঘরে তুলেছেন কৃষকেরা। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ৬ হেক্টর জমির বোরো ফসল সম্পূর্ন নষ্ট হয়েছে। এতে ৮০ জন কৃষকের ৩৭ মে: টন চাল নষ্ট হয়, যার ক্ষতির পরিমান ১৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

শুক্রবার(১৫ মে) কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে, কালীগঞ্জে এ বছর ৯৮১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। শুক্রবার পর্যন্ত ৯০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৮৯০ হে. জমির ধান কর্তন হয়ে গেছে। এবার অতিবৃষ্টিতে ২০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ( শতকরা ৩০ ভাগ) হয়েছে যার মধ্যে ৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমান মোট ফসলের শতকরা ০.০৬ ভাগ। অতি বৃষ্টির কারণে ৮০ জন কৃষকের ১৮.৩ লক্ষ টাকার ফসল ক্ষতি হয়। এই ক্ষতির ফলে কৃষক ৩৭ মেট্রিক টন চাল কম পাবে। কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর, ব্রাম্মনগাঁও ও চুয়ারীখোলা এলাকায় ধান সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি অফিসের হিসেবে এই তিন এলাকার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এলেও এলাকাঘুরে দেখা যায়, এর বাইরেও অনেক জায়গায় বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে। অনেক বিল ও শীতলক্ষার তীরে বোরো ফসল নষ্ট হওয়ার আলামত রয়েছে। অনেক বিলে পানি জমে ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান অনেক কৃষক কাটতে পারেনি। অনেককে পানিতে ডুবে ডুবে ধান কেটেছে। যে সকল ধান তুলতে পারেনি, সেসকল ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যায়নি। অনেক কষ্ট করে শ্রমিক পাওয়া গেলেও শ্রমিকের মজুরী ১১০০ টাকার উপরে হওয়ায় অনেক কৃষক পরিবারের সদস্যদের নিয়েই ধান কেটেছে। যেসকল বিলে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, সে সকল বিলে ধানপচা পানির গন্ধ চারিদিকে পরিবেশও দুষিত করছে। এই দুষিত পানিতে পশুপাখির যাতায়াত থাকায় রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।

কালীগঞ্জের ঐতিহাসিক বিলা বেলাইয়ের প্রধান কৃষিপণ্য ফসল। এই বিলে শত শত মানুষের ভাতের চাহিদা মেটায়। অতিবৃষ্টির কারণে বিল বেলাইয়ের অনেক ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে বিলের তলদেশে যে সকল ফসলী ক্ষেত ছিল সেগুলো একেবারেই পানিতে ডুবে গেছে। ইদানিং বৃষ্টিপাত কমে গেলেও বিল বেলাইয়ে কৃষকের কান্না যেন থামছেই না। প্রতিদিন কৃষকেরা তাদের হারানো ধানের ক্ষেত দেখতে বিলের পাড়ে আসছেন।

বক্তারপুরের কৃষক মনির হোসেন জানান, ধান কাটা শ্রমিকের মজুরী বেশী হওয়ায় তিরি পরিবারের সদস্যদের নিয়েই ধান কেটেছেন। ধান কাটার পর ধান মারাই ও খড় শুকানোর কাজও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেরেছেন বলে জানান তিনি।

চুয়ারীখোলা এলাকার কৃষক লিউ কস্টা জানান, ১২০০ টাকা রোজে শ্রমিক নিয়ে তিনি ধান কেটেছেন। অনেক ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাটতে পারেননি। এতে তার অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, এখন পর্যন্ত ৯০ ভাগ ফসল কাটা শেষ হয়েছে। বিপদেআপদে আমরা সব সময় কৃষকের খোঁজখবর নিচ্ছি। তাদের বিপদে পাশে আছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চিত্র যথাযথভাবে সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *