দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা কঠিন

Slider শিক্ষা


একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতর যদি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তাহলে সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে কখনোই একটি মেধাভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে শিক্ষা খাতে নানা ধরনের অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে। যেমন—বিধিবহির্ভূত শিক্ষক বদলি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনুমোদন বা নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে অনিয়ম, বিভিন্ন সরকারি অনুদান বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাব এবং শিক্ষকদের অযৌক্তিক হয়রানির মতো অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
দুঃখজনকভাবে, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগের পর সর্বোচ্চ ব্যবস্থা হিসেবে শুধু বদলি করা হয়। কিন্তু বদলি কোনো কার্যকর শাস্তি নয়। যদি কেউ সত্যিই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তাঁকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না; বরং একই অনিয়ম নতুন কর্মস্থলেও চলতে পারে।

শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন— • দুর্নীতির প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত। • প্রমাণিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা। • শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হয়রানি বন্ধ করা। • সকল প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। • সৎ, দক্ষ ও জনবান্ধব কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ও উৎসাহ প্রদান।
শিক্ষা কোনো ব্যবসার ক্ষেত্র নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসন, সততা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানই পারে শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *