সারাদেশে ৪৫ মামলায় সাড়ে ৪ হাজার নেতাকর্মী আসামি: বিএনপি

Slider রাজনীতি


ইউনিয়ন পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে ৪৫টি মামলায় সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। আজ সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘ইউনিয়ন পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নতুন ৪৫টি মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে বিএনপির এজাহারভুক্ত ১৭০৬ জন এবং অজ্ঞাত আসামি ৪৫১৭ জন এবং গ্রেপ্তার ২৯২ জন নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগ পুলিশের হামলায় সারাদেশে বিএনপির ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ১১ জন।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়াও পুরনো মামলায় অজ্ঞাত আসামি দেখিয়েও গ্রেপ্তার ও হয়রানি সারাদেশে অব্যাহত গতিতে চলছে। শুধু গ্রেপ্তারই নয়, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুলিশের ছত্রছায়ায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সরকার ইউনিয়ন পদযাত্রায় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারের মন্ত্রী-নেতারা ইউনিয়ন পদযাত্রা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছে, বাধা-বিঘ্ন ও হামলা-মামলা উপেক্ষা করে ইউনিয়ন পদযাত্রার ব্যাপক সাফল্যে তারা প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে দমন-পীড়ন শুরু করেছে। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই-১০ দফার আন্দোলন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও ব্যাপক বিস্তৃত হয়েছে। দমন-নিপীড়ণ-ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে এই আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না।’

সৈয়দ প্রিন্স আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে তথাকথিত শান্তি সমাবেশের নামে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শান্তি কমিটির মতো অশান্তি সৃষ্টি করে ভীতিকর পরিস্থিতির মাধ্যমে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ১১ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হলেও ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার মিছিল থেমে নেই। যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালিত হয়েছে, সেখানেও গায়েবী মামলা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দিনে কর্মসূচি পালিত হলেও গভীর রাতে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ভাঙাড়ি দোকান থেকে অচল মোটরসাইকেল নিয়ে তা পুড়িয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আপনারা জানেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দুই মাসের অধিক সময় কারাগারে ভীষণ অসুস্থ। তাকে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমাদের দাবি উপেক্ষা করে সরকার তার প্রতি অমানবিক আচরণ করছে। আমরা আবারও রুহুল কবির রিজভীকে অবিলম্বে কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *