এমবাপের বিশ্বরেকর্ড, ওলিসের রেকর্ড, ফ্রান্সের যত কীর্তি

Slider খেলা


গ্রুপপর্বে শতভাগ জয় ও ১০ গোল করে নকআউটে উঠেও সেই দুরন্ত ফর্ম ধরে রেখেছে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপের পাগলা ঘোড়া তো চলছেই, একইসঙ্গে কিছুটা আড়ালে পড়ে যাওয়া মাইকেল ওলিসেকেও কেউ থামাতে পারছে না। যার ওপর ভর করে রেকর্ড গড়ছে ফ্রান্সও। সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০১৮ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ ষোলোতে উঠেছে।


বিশ্বকাপের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই ন্যূনতম ৩টি করে গোল করেছে ফ্রান্স। যা ফিফার এই মেগা ইভেন্টের ইতিহাসে টানা সর্বোচ্চ ম্যাচে কমপক্ষে তিন গোলের রেকর্ড।


গ্রুপপর্বের পর নকআউটেও সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন এমবাপে। যা বিশ্বকাপের নকআউটে তার চতুর্থ একাধিক গোলের ঘটনা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় এই সংখ্যাটি দ্বিগুণ। এ ছাড়া সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপের সাত ম্যাচে একাধিক গোলের রেকর্ড গড়লেন এমবাপে।


দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস হ্যাসলারের পর এক আসরে এত বেশি অ্যাসিস্ট আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। তবে বিশ্বকাপের এক আসরে (১৯৭০) সর্বোচ্চ ৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখনও ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলে (১৯৬৬ আসর থেকে রেকর্ড সংরক্ষিত আছে)।


চলতি আসরে এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসির সমান সর্বোচ্চ ৬টি গোল করেছেন এমবাপে। তবে এই টুর্নামেন্টে তার ২টি অ্যাসিস্ট তাকে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে মেসির চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।


বিশ্বকাপে এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে যৌথভাবে ৬টি গোলে অবদান রেখেছেন (এমবাপেকে দেম্বেলের ৪ অ্যাসিস্ট এবং দেম্বেলেকে এমবাপের ২ অ্যাসিস্ট)। গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটি অন্য যেকোনো জুটির চেয়ে বেশি।

১৮
সুইডেন ম্যাচে জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে এমবাপের গোলসংখ্যা ১৮-তে দাঁড়িয়েছে। পুরুষদের বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬) টপকে তিনি এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন এবং শীর্ষ গোলদাতা লিওনেল মেসির (১৯) চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন।


এই ম্যাচ দিয়ে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ৭টি ম্যাচ জেতা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্সই প্রথম দল।


ফ্রান্সের ম্যানেজার হিসেবে দিদিয়ের দেশম ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার নবম জয় পেয়েছেন, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যেকোনো কোচের চেয়ে বেশি।


গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রম দুর্দান্ত ফর্মে না থাকলে সুইডেন হয়তো তিনটির বেশি গোল হজম করত। ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি নয়টি সেভ করেছেন; গত ৬০ বছরের মধ্যে কোনো সুইডিশ গোলরক্ষকের বিশ্বকাপ ম্যাচে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেভ (রনি হেলস্ট্রমের ১০টি সেভের পরেই তাঁর অবস্থান, যা তিনি ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে করেছিলেন)।

১০
এমবাপে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বিশ্বকাপের নকআউটেই ১০টি গোল করেছেন। নরওয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটির মাধ্যমে তিনি সর্বকালের তালিকায় ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো ও লিওনিদাসকে (৮) ছাড়িয়ে গেছেন।

২২
বিশ্বকাপে মোট গোল ও অ্যাসিস্টের সম্মিলিত সংখ্যাকে ২২-এ (১৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট) উন্নীত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলে অবদানের তালিকায় দুইয়ে থাকা পেলেকে ছাড়িয়ে গেছেন (এখন তার সামনে কেবল লিওনেল মেসি, যার মোট সংখ্যা ২৭)।

৫৩
২০১৪ আসর থেকে শুরু করে বিশ্বকাপে ফ্রান্স জাতীয় দল মোট ৫৩টি গোল করেছে। এই সময়ের মধ্যে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় তাদের গোলসংখ্যা অন্তত ১৬টি বেশি (দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানি ও আর্জেন্টিনা করেছে ৩৭টি করে গোল, ৩৬ গোল নিয়ে এর পরের অবস্থানে ব্রাজিল ও নেদারল্যান্ডস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *