
পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় জেলা বরগুনায় অসংখ্য ছোট-বড় পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় রয়েছে তালতলী উপজেলার নিদ্রার চর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সবুজ ঘাসের কার্পেটের মধ্যে সারি সারি গাছ এবং সাগর মোহনায় নদীর ঢেউয়ের সৌন্দর্যই এখানে আসা পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকার পর্যটকদের ভিড় বাড়ে এই নিদ্রার চরে।
তবে এখানে আসা দর্শনার্থীদের দাবি, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ রাত্রিযাপনের জন্য সুব্যবস্থা করা হলে নিদ্রার চর হবে দেশের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।
বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর এ তিন নদীর মোহনায় তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত নিদ্রার চরের আয়তন প্রায় দুই কিলোমিটার। জনপ্রিয় এ চরটির পাশেই রয়েছে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত এবং আরও রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন টেংরাগিরি ইকোপার্ক। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্রে একসঙ্গে ঘুরতে পারায়, এখানে প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটকরা ভিড় জমান। তবে নিদ্রার চরে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও এখন পর্যন্ত এখানে নির্মাণ করা হয়নি তেমন কোনো বিশ্রামাগার, শৌচাগার এবং পর্যাপ্ত হোটেল-মোটেলের। ফলে রাত্রিযাপন করতে না পেরে দিনেদিনেই ফিরতে হচ্ছে এখানে আসা অধিকাংশ পর্যটকদের।
স্ত্রীকে নিয়ে নিদ্রার চর ঘুরতে এসে জামাল উদ্দিন আকাশ নামে এক পর্যটক ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে এসে ভালো লেগেছে। বিশেষ করে বিকেল বেলায় এখানকার সৌন্দর্য আরও বাড়ে। কুয়াকাটার মতোই এখানেও পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে এবং যারা এখন পর্যন্ত এখানে আসেনি তাদেরকেও আমি আসার আহ্বান জানাই। তবে এখানে বিশ্রামাগার এবং শৌচাগারসহ থাকার জন্য ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো হতো।
পটুয়াখালী থেকে ঘুরতে আসা কবিতা নামে এক নারী পর্যটক ঢাকা পোস্টকে বলেন, বরগুনার নিদ্রার চর একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। তবে এখানে এসে আমি দেখলাম মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়ে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তার জন্য এখানে পুলিশ প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এছাড়া বিশেষ করে নারীদের জন্য ওয়াশরুম এবং বিশ্রামাগার প্রয়োজন রয়েছে।
জুনায়েদ ইসলাম নামে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিদ্রার চরে এসে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি সারাদেশ ঘুরে দেখেছি, নিদ্রার চর জায়গাটি একদম চট্টগ্রামের গুলিয়াখালীর মতো দেখতে। যারা কুয়াকাটা ঘুরতে যায় তারা কেবল সমুদ্র দেখতে পায়। কিন্তু এ জায়গাটিতে যদি তারা ঘুরতে আসেন তাহলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। তবে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এখানকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন প্রয়োজন। কিছু কটেজ এবং বসার জন্য বেঞ্চ নির্মাণ করা দরকার। আমি মনে করি স্থানীয় প্রশাসন যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।
নিদ্রার চরসহ তলতলীর সকল পর্যটন কেন্দ্রে আসা পর্যটকদের সুবিধার্থে সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, তালতলী উপজেলায় বেশ কিছু অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পষ্ট আছে। তার মধ্যে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, নিদ্রার চর এবং হরিণঘাটা ইকোপার্ক রয়েছে। এসব জায়গাগুলোতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে প্রথমেই আমাদের দরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা। আমরা চেষ্টা করছি এবং সরকার এ বিষয়ে দৃষ্টি দিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তালতলী উপজেলার পর্যটনের বিষয়ে কথা বলেছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে পর্যটকদের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা আছে। এর ফলশ্রুতিতে খারাপ রাস্তাগুলোর বাজেট দিয়েছি এবং কিছু আমরা পেয়েছি।
পর্যটকদের রাত্রিযাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি রেস্টহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকরা এখানে রেস্ট নিতে পারেন। পাশাপাশি নিদ্রার চর এবং হরিণঘাটা ইকোপার্কেও রেস্ট হাউজ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এছাড়াও নারী পর্যটকদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম এবং পানির জন্য ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজও ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আমদের নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি আছে। একই সঙ্গে কোস্টগার্ডও অবস্থান করছে। তারা মূলত নদী এবং সাগর কেন্দ্রীক অপরাধ নির্মূলে কাজ করছেন। দিন দিন যেহেতু পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে সে কারণে এখানে একটি টুরিস্ট পুলিশের থানা অথবা ফাঁড়ি করা যায় কি-না সে বিষয়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদি এখানে টুরিস্ট পুলিশের থানা অথবা ফাঁড়ি করা যায়, তাহলে আমরা আশা করছি পর্যটকদের জন্য এটি একটি নিরাপদ জায়গা হবে।
