
গাজীপুর: গাজীপুরের ১২১ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী রান বিলাসমনি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দল শিক্ষকদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ এখন ফেঁসাদে রুপ নিয়েছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ করার পর এখন প্রতিকারের হাতিয়ার হিসেবে ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে সৃষ্ট দু্ই ভাগ মুখোমুখি হয়ে যে কোন সময় সংঘর্ষে রুপ নেয়ার আশংকা বিরাজ করছে।
জানা যায়, রানি বিলাসমনি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্প্রতি দুই দল শিক্ষক তাদের আভ্যন্তরীন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়ে। কোচিং বানিজ্য নিরাপদ করতে ও বিদ্যালয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে তারা দ্বন্ধে জড়ায়। এই দ্বন্ধের জের ধরে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেয়। এই অভিযোগের তদন্ত শুরু হলে প্রতিপক্ষও পাল্টা অভিযোগ দেয়। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ছাত্রদের দিয়ে রানি বিলাসমনি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা অবরোধ করানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরাতন এই বিদ্যালয়টিতে এখন ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছে। সাথে রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা পেতে দুই পক্ষই নেতাদের দরবারে আসা যাওয়া শুরু করেছেন। বিদ্যালয়টিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও আভ্যন্তরীন দ্বন্ধে সৃষ্ট উত্তেজনা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ছাত্র শিক্ষকদের মুখোমুখি অবস্থান যে কোন সময় সংঘর্ষে রুপ নিতে পারে।

ক্যাপশন: সম্প্রতি রানি বিলাসমনি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রানী বিলাসমনি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শরফুদ্দিন আহমদ ও সহকারী শিক্ষক আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ্ আপন মামা-ভাগিনা। এই সম্পর্কৈর কারণে প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষক নিজেদের মধ্যে বাক বিতন্ডা ও দ্বন্ধে জড়িয়ে যায়। এই দ্বন্ধ রুপ নেয় অভিযোগ করা পর্যন্ত। শেষ পর্যায়ে অভিযোগ ও ছাত্র আন্দোলন ভরসা হয়ে যায় দুই পক্ষেরই। সূত্র বলছে, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সহকারী শিক্ষক জাফর ভর্তি বানিজ্য সহ নানা ধরণের সুবিধা নিয়েছেন। এই সরকারের সময় তিনি নিজেকে বিএনপি পরিবারের লোক দাবী করে আবার প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন। এই রাজনৈতিক প্রভাবের সাথে মামা-ভাগিনার সম্পর্ক একাকার হয়ে বড় ধরণের শক্তিতে পরিনত হওয়ায় প্রতিপক্ষও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। এই দুই দলের মধ্যে ভিকটিম হয়েছেন সদ্য ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান নূর। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় নির্যাতিত হয়ে ১০বার বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বদলী খেটে নিজের বিদ্যালয়ে বড় পদে বসার সাথে সাথে তিনিও ভিকটিম হয়ে গেছেন। মামা-ভাগিনা সিন্ডিকেটের একজন হিসেবে নূরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ হয়েছে।
এই বিষয়ে অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক তাহমিনা সুলতানা যুথি বলেছেন, আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমার অভিযোগ সত্য। সঠিক তদন্ত হলে ইনশাল্লাহ ন্যায় বিচার পাব।
অভিযুক্তদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ্ বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ মিথ্যা। আওয়ামীলীগের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন,বুদ্দিন সাহেবকে চিনতাম।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের ঘটনা আভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।
