
গাজীপুর: গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই ছেলেকে নিয়ে এক রুমে ঘুমিয়ে থাকা বাবার পরিবারে আকাশ ভেঙে পড়েছে। এক ছেলেকে খুন করে দেহ কাটা হয়েছে আর বাবার লাশ পড়ে আছে রেললাইনের দ্বারে। এই ঘটনায় পুলিশ অক্ষত ছেলেকে আটক করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।
আজ রবিবার (২৫ এপ্রিল) টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত বাবা সোহেল রানা (৪৮) উত্তর বনমালা গ্রামের মোস্তফা দর্জির ছেলে। আর নিহত সোহেল রানার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭) ঢাকার উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। আটক সাইফুর রহমান(২৭) নিহত সোহেল রানার ছেলে ও সাকিবুর রহমান শোয়েবের ভাই।
পুলিশ জানায়, সোহেল রানা তার দুই ছেলে সাকিবুর রহমান ও সাইফুর রহমান কে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়েছে। ভোররাতে চিৎকার চেচামেচি শোনে আশপাশের মানুষ বের হয়। এরপর রুমের ভেতরে সাকিবুরের লাশ ও পাশে রেললাইনে বাবা সোহেল রানার লাশ পাওয়া যায়। সাকিবুর রহমানের লাশের বিভিন্ন অংশ কাটা ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক সেবন নিয়ে পরিবারের অভ্যন্তরে দীর্ঘ কলহ বিদ্যমান ছিল। ঘটনার রাতে সোহেল রানা তার দুই পুত্র—সাকিব (ভিক্টিম-১) ও সাইফুর রহমানের সাথে একই ঘরে অবস্থান করেন।
*হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা ও আঘাতের ধরণ:* তদন্তকালে ১নং ভিক্টিম সাকিবের মরদেহে জখমের যে ধরণ পাওয়া গেছে, তা সাধারণ পারিবারিক কলহ থেকে ভিন্ন। সাকিবের মাথার পেছনে গভীর জখম, ডান হাতের কব্জি এবং বাম পায়ের গোড়ালির উপরের অংশ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁতভাবে কাটা হয়েছে। এ ধরনের জখম সাধারণত কোনো পেশাদার অপরাধী বা ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনাকারীর কাজ বলে প্রতীয়মান হয়, যা ঘটনাটিকে একটি ‘সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে সন্দেহের অবকাশ তৈরি করেছে।
*পিতার রহস্যজনক মৃত্যু:*
সাকিবের মরদেহ উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী রেললাইন থেকে পিতা সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি অনুশোচনা থেকে আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর রেললাইনে ফেলে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশী তদন্ত চলছে।
*তদন্তের মূল ফোকাস ও সন্দেহের ক্ষেত্রসমূহ:*
বড় ভাই সাইফুর রহমানের ভূমিকা: একই ঘরে অবস্থান করা সত্ত্বেও সাইফুর রহমানের অক্ষত থাকা এবং তার দেওয়া বক্তব্যে অসংগতি থাকায় তার ভূমিকা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
*তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা:*
মাদকাসক্ত পিতাকে ব্যবহার করে অন্য কেউ বা সাইফুর নিজে এই নৃশংসতায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জিএমপির অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, পিতা পুত্র খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জীবিত সাইফুর রহমান কে আটক করে জিজ্ঞাস্যবাদ করা হচ্ছে। লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
