গরম পানি পান করা কি উচিত?

Slider লাইফস্টাইল

163435hot-water

 

 

 

 

 

 

দেহকে সচল রাখতে পানির গুরুত্বকে কখনও অস্বীকার করা যায় না। মানব শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই পানি দিয়ে তৈরি।

দিনে কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। যদিও আরেক দল চিকিৎসক এ বিষয়ে একেবারে ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের মতে এইভাবে পানি পান করার পরিমাণকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় বেঁধে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। বরং যখনই পানির তৃষ্ণা পাবে, তখনই পানি পান করুন। এমনটা করলে শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তা থাকবে না। কিন্তু পানি যেন হয় হলকা গরম। তাহলে একদিকে যেমন ডিইহাইড্রেশনের আশঙ্কা কমবে, তেমনি শরীরের আরও অনেক উপকারও হবে।

আসুন, জেনে নিই সেই উপকারগুলি কি কি :

ওজন হ্রাস পাবে
অতিরিক্ত ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে আজ থেকেই গরম পানি পান করা শুরু করুন। দেখবেন ফল পাবেন একেবারে হাতে নাতে।

আসলে গরম পানি পান করলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগই থাকে না। শুধু তাই নয়, গরম পানি অ্যাডিপোস টিস্যু বা ফ্যাটেদের ভেঙে ফেলেও ওজন হ্রাসে সাহায্য করে।

কনস্টিপেশনের প্রকোপ কমায়
গরম পানি পানের অভ্যাস করলে ইনটেস্টাইনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে ইনটেস্টাইনে জমে থাকা ময়লা শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় লেগে পরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমতে সময় লাগে না।

শরীরের বয়স কমে
গরম পানি স্কিন সেলের ক্ষত সারিয়ে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। সেই সঙ্গে ত্বক টান টান হয়ে ওঠে এবং বলিরেখাও হ্রাস পায়। ফলে বয়সের কোনও ছাপই ত্বকের উপর পরতে পারে না। প্রসঙ্গত, শরীরে টক্সিনের মাত্রা যত কমে, তত শরীর এবং ত্বকের বয়সও হ্রাস পায়। আর গরম পানি যে এ কাজটা ভালো ভাবেই করে তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না!

ব্রণের প্রকোপ কমে
শরীরের ভেতরে ময়লা যত কম জমবে, ততই ব্রণ হ্রাস পাবে। আর গরম পানি যে টক্সিনের বিরোধী, তা নিশ্চয় আর জানতে বাকি নেই! তাই ব্রণের প্রকোপ কমাতে সকাল বিকাল গরম পানি পান শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই ব্রণ এবং পিম্পলের মতো ত্বকের রোগ একেবারে সেরে যাবে।

ঠাণ্ডা লাগা এবং গলা ব্যথার প্রকোপ কমায়
এই ধরনের শারীরিক সমস্যার চিকিৎসায় গরম পানির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। গরম পানি এক্ষেত্রে রেসপিরেটারি ট্রাক্টকে পরিষ্কার করে ঠাণ্ডা লাগা এবং গলার অস্বস্তি কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে বন্ধ নাকও পুনরায় সচল হয়ে যায়।

স্ট্রেস কমায়
গরম পানি পানের পর পরই সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে স্ট্রেস লেভেলও কমতে থাকে, নিয়ন্ত্রণে এসে যায় অ্যাংজাইটিও।

শরীরকে বিষমুক্ত করে
যখন আমাদের রক্তে ক্ষতিকর টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে তখন কিডনিকে ওভার টাইম করে শরীর থেকে সেই টক্সিক উপাদনদের বার করে দিতে হয়। না হলেও হাজারো রোগ হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রেও গরম পানি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। গরম পানি পান করা মাত্র শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে ঘাম হতে শুরু হয়। আর ঘামের মাধ্য়মে টক্সিনগুলি বেরিয়ে যেতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, গরম পানি যদি অল্প করে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে এক্ষেত্রে আরও উপকার পাওয়া যায়।

চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
চুলের গড়ায় থাকা নার্ভদের সচলতা বৃদ্ধি করতে গরম পানি বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। ফলে গরম পানি পান করা মাত্র স্কাল্পে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধি রক্ত চুলের গোড়ায় পৌঁছে গিয়ে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

নার্ভাস সিস্টেম আরও কর্মক্ষম হয়ে ওঠে
গরম পানি পান করা মাত্র সারা শরীরে এমনকি মস্তিষ্কেও রক্তচলাচল বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নার্ভের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ব্রেন পাওয়ার বেড়ে যায়।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার খাওয়ার পর ঠাণ্ডা পানি পান করলে পাকস্থলীর ভিতরের দেওয়ালে ফ্যাটের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা কমে যায়। সেই সঙ্গে ইন্টেস্টিনাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই তো খাবার পর পর ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে হালকা গরম পানি পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে ঠাণ্ডা পানির কারণে সাধারণত যে যে সমস্যাগুলি হয়ে থাকে সেগুলি গরম পানি পান করলে একেবারেই হয় না। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার কোনও সুযোগই পায় না।

– হেল্থ সাইট থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *