
ক্যাপশন( গাজীপুরের কালীগঞ্জের ২০ শয্যাবিশিষ্ট তালিয়া হাসপাতালটি পাঁচ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে)
গাজীপুর: প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসার জন্য ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তালিয়া ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। পাঁচ বছর ধরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। চিকিৎসাসেবার বদলে এটি এখন সাপ-শেয়ালের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ঝকঝকে আধুনিক এক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ভেতরে এসি ও টেলিভিশনসহ সব সরঞ্জাম প্রস্তুত। তবে দরজায় তালা, করিডোরে নিস্তব্ধতা আর চারপাশে ঝোপঝাড়।
গতকাল শনিবার(২০ জুন) সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গাজীপুরের কালিগঞ্জে পূর্বাচল নতুন শহরের লাগোয়া নাগরী ইউনিয়নের তালিয়া গ্রামে প্রায় ২ দশমিক শূন্য ৭ একর জমির ওপর এই হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণ শেষ হয়। ২০২১ সালের জুনে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানে একটি মূল ভবন, তিনটি কোয়ার্টার, জেনারেটর রুম ও গ্যারেজ থাকলেও নেই কোনো কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। হাসপাতালের খোলা জায়গা দখল করে স্থানীয়রা সবজি চাষ করছেন। ভবনের ভেতরে আসবাব ও সরঞ্জাম থাকলেও জনবল ও ওষুধের অভাবে সেগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৬টি পদ অনুমোদন দিলেও ১২টি পদ এখনো শূন্য। পদায়ন করা একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও দুজন নার্স বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অর্থনৈতিক কোড’ না থাকা। এই কোড না থাকায় বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে না। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বা ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
তালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফরোজা বেগম বলেন, ‘অসুস্থ হলে আমাদের অনেক দূরে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের নিয়ে ঢাকা যাওয়া খুব কষ্টের। হাসপাতালটি চালু হলে আমাদের দুর্ভোগ কমত।’ স্থানীয় চিকিৎসক ও বাসিন্দারা দ্রুত এটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক কোড না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘ওষুধ, জনবল ও বাজেটের কিছুটা ঘাটতি আছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই হাসপাতালটি চালু করা যাবে।’
