
ভোর তিনটার দিকে গাবতলী থেকে আমাদের বাস ছেড়েছে। এখন পর্যন্ত যমুনা পার হতে পারি নাই। আশেকপুর বাইপাসের দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি। জীবন তো পুরাই বরবাদ, ঈদের নামাজের আগে পৌঁছাতে পারব কিনা সন্দেহ আছে আমাদের? আমাদের জীবন শেষ।
ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনাসেতু মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাসে এভাবেই মন্তব্য করেন এনজিওতে চাকরিজীবী ইফতেখারুল ইসলাম।
এসময় আরেক গার্মেন্টসকর্মী জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গাড়িতে উঠেছি। এখন পর্যন্ত যমুনাসেতু পার হতে পারি নাই। অনেক যানজট, জানি না আর কত সময় লাগবে রংপুর যেতে। পরিবারের সাথে ঈদ পালন করতে যাচ্ছি। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাচ্ছি। বাসে প্রায় ১৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে ৬০০-৭০০ টাকা করে রংপুর যাইতাম। এরকম যদি যানজট থাকে, তাহলে বাড়ি যাইতে পারব না। দুপুর হয়ে গেছে এখনো গাড়ি চলছে না। বর্তমানে টাঙ্গাইলে আছি।
ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনাসেতু মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থেমে থেমে যানজট। যার ফলে নারী-পুরুষে, বৃদ্ধ-শিশুসহ সকল বয়সী ঘরমুখী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার (২৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে মহাসড়কের করাতিপাড়া বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। অনেকেই খোলা ট্রাক-পিকআপ ও বাসের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে।
কেউ বসে কেউ খোলা ট্রাকে ঘুমিয়ে গন্তব্য যাচ্ছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা। সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুতে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এরমধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩৬ হাজার ৪২৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৪ হাজার ২শ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৮১৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় ১ কোটি ৬১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, রাত থেকে বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে বিভিন্ন জায়গায় যানবাহন বিকল হওয়ায় এমনটা হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মহাসড়ক স্বাভাবিক হবে।
