ঈদ সালামী নেয়ার লোকেরা এখন অপরাধের পাহারাদার!

Slider টপ নিউজ

ক্যাপশন( সাম্প্রতিক সময়ে টঙ্গীতে গ্রেপ্তারকৃতদের একাংশ)

গাজীপুর: প্রতি ঈদেই সালামীর নামে চাঁদাবাজী হয় এটা সবাই জানে। কিন্তু এবারই প্রথম ব্যতিক্রমী খবর হল, চাঁদা বা ঈদ সালামী হয়ে গেছে ব্যবসার লভ্যাংশ বা পারিশ্রমিক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর সৃষ্ট অস্থিরতার রেশ এখনো কেটে না উঠায় অপরাধ জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাহারাদারদের দায়িত্ব পালনের সময় অনেকটাই স্থায়ী হয়ে গেছে। অনেক সময় একই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ কেউ অপরাধ ব্যবসায় জড়িতও হয়ে গেছেন। এর ফলে যাদের নিকট চাঁদা বা ঈদ সালামী আনতে যেতে হতো, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে দীর্ঘ সময় থাকায় এখন ঈদ সালামী বা চাঁদা হয়ে গেছে ব্যবসার লভ্যাংশ বা পারিশ্রমিক। তাই এখন আর এটাকে চাঁদা বা ঈদ সালামী বলা যাবে না। বলতে হবে ব্যবসার লভ্যাংশ বা পারিশ্রমিক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার সীমানা ঘেঁষা শিল্পনগরী টঙ্গীতে দুই শতাধিক চলমান শিল্পকারখানা রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাদকের বাজার টঙ্গী। মাদকসেবী বা মাদক বিক্রেতারা ছিনতাই, চুরি ডাকাতি ও খুনের সাথেও জড়িত থাকায় টঙ্গী অপরাধীদের বড় বাজারও বলা যায়। অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গীর ১৯ বস্তিতে দুই লাখের বেশী বসবাসকারীর প্রায় ২০ ভাগই অপরাধী হওয়ায় অপরাধীর সংখ্যাও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার। এই বিশাল অংকের অপরাধীরা ঘনবসতি এলাকা টঙ্গীতে বসবাস করেন। ফলে সারাদেশের আয়তনগত দিক থেকে কম জায়গায় বেশী অপরাধীর বাস টঙ্গীতেই। বেশী অপরাধীর বহুরকম অপরাধের অধিক্ষেত্র টঙ্গীতে ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজীর কৌশল পাল্টে গেছে। আগে অপরাধীদের নিকট থেকে স্পট হিসেবে চাঁদা নিতেন চাঁদাবাজরা। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের কতিপয় বড় নেতারা এই চাঁদা ঘরে বসে পেতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পর এই ধরণ পাল্টেছে। ৫ আগস্টে সব কিছু এলোমেলো হওয়ায় পাহারাদার তৈরী হয়েছে নতুনভাবে। নতুন পাহারায় নতুন লোকেরা অপরাধের স্পটগুলোর দায়িত্ব পায়। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এক ধরণের পাহারাদার দায়িত্ব পালন করেন। পরে নতুন পাহারাদার দায়িত্ব পায়। দেশে কাংখিত স্থিতিশিলতা না আসায় নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত পাহারাদাররা সার্বক্ষনিক পাহারার দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। ধরে নেয়া যায় চাকুরীর মতই দায়িত্ব তাদের। বর্তমানে নতুন পাহারাদারদের দায়িত্বে চলছে টঙ্গীর অপরাধের বিশাল স¤্রাজ্য।

অনুসন্ধান বলছে, টঙ্গীর প্রত্যেকটি অপরাধ স্পটকে ঘিরে পাহারাদাররা গড়ে তোলেছেন কিশোর গ্যাং। এই কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে পাহারাদাররা অপরাধ স্পটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। আর পাহারাদারদের গডফাদাররা বড় বড় নেতাদের সাথে ছবি তোলে বড় বড় পোস্টার ব্যানার করে অপরাধ নিয়ন্ত্রন সংস্থাগুলোর অফিসের সামনে বিশাল করে টানিয়ে রাখছেন। এতে করে অপরাধের গডফাদাররা যে অনেক শক্তিশালী, সেই শক্তিই প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই ভাবেই চলছে অপরাধ জোন টঙ্গীর সকল অপরাধ।
জানা গেছে, টঙ্গীর দুই শতাধিক চলমান শিল্পকারখানার ঝুটের ব্যবসা, মাদকের স্পট, ছিনতাইয়ের স্পট, জমি দখল, লাভজনক ঝগড়া বিবাদ দেখভাল করার জন্য যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারাই পাহারাদার হিসেবে কর্মরত। পান থেকে চুন খসলেই দলে দলে কিশোর গ্যাং বা সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে চলে যায়। শান্তিপূর্নভাবে ঝামেলা মিটে গেলে ভালো। না হলে তাদের গডফাদারদের দিয়ে পুলিশ এনে অবাধ্য পক্ষকে হয়রানী করে। ফলে টঙ্গীতে বর্তমানে মানুষ নীরবে নিভৃতে সন্ত্রাসীদের কথা মেনে নিচ্ছেন। আর কোথাও ঝামেলা হলে পুলিশ গিয়ে দায়সারা কথা বলে সব মিটিয়ে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাদক কারবারী বলেন, যাদের আমরা চাঁদা বা ঈদ সালামী দিতাম তারা এখন আমাদের পাহারাদার। তাই সালামী না মজুরী দেই।

এ বিষয়ে জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার( ক্রাইম এন্ড অপস) মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, টঙ্গীতে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। দুই মাসে এক হাজারের মত অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে সকল ধরণের অপরাধ ও অপরাধী দমনে আমাদের সমন্বতি কাজ চলমান। আশা করি কোন অপরাধীই ছাড় পাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *