কালীগঞ্জে ঘাসের চাষে লাভ পাঁচগুণ

Slider কৃষি, পরিবেশ ও প্রকৃতি

গাজীপুর: প্রকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিকের বেশী মজুরী ও নানা প্রতিকূলতার মাঝে ধানের চাষ তেমন লাভজনক হচ্ছে না। এরই মধ্যে ধানের থেকে পাঁচগুণ লাভে ধান ক্ষেতে ঘাসের চাষ ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায়। কয়েকগুণ বেশী লাভ ও সরকারী প্রণোদনা পেয়ে ঘাস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। আর এই ঘাস গো-খাদ্যের চাহিদা পূরণ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এক বিঘা জমিতে ঘাসের চাষ করলে এক চাষেই বছরে ৫/৬ বার ঘাস বিক্রি করা যায়। ৫/৬ বার ফলন হওয়ার কারণে প্রতি বিঘা ঘাসের বিক্রিত মূল্য ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। কৃষকদের ভাষ্য, এক বিঘা জমিতে ঘাসের চাষ করলে দুই হাজার টাকার চারা, দুই হাজার টাকা শ্রমিকের মজুরী ও ২০ কেজী ইউরিয়া সার (যার মূল্য ৮০০ টাকা) খরচ হয়। এই খরচেই বছরে ৫/৬ বার ঘাস বিক্রি করা যায়। একবার ঘাস কেটে বিক্রি করলে আবার ঘাসের ফলন নিজ থেকেই হয়ে যায়। একবার ঘাস লাগালে বছরে ৫/৬ বার বিক্রি হয়। দ্বিতীয় বার ঘাস বিক্রির সময় শুধু দুই হাজার টাকা করে শ্রমিকের খরচ লাগে আর কোন খরচ নেই। এক বিঘা জমির ঘাস একবার বিক্রি করলে ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেই হিসেবে ঘাস চাষ করে বছরে ৫/৬ বার বিক্রি করলে মোট খরচ হয় ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা আর বিক্রি হয় ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় ৬০ থেকে ৭৩ হাজার টাকা। ১৭ হাজার টাকা খরচ করে ৯০ হাজার টাকার ফলন হয় ঘাস চাষে যা খরচের ৪ থেকে ৫গুণ।

কৃষকেরা বলছেন, এক বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ বা ব্র্রি-২৯ জাতের ধান চাষ করলে বছরে ২০ মন ধান হয়। ধানের চারা, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরী বেশী হওয়ায় এক বিঘায় যত টাকার ধান হয়, তত টাকাই খরচ হয়। ধান চাষে কোন লাভ নেই। আর ঘাস চাষে বছরে ধানের থেকে ৫ গুন বেশী লাভ পাওয়া যায়। তাই কৃষকেরা ধানের চেয়ে ঘাস চাষে বেশী ঝুঁকছেন। ধান ক্ষেতের পাশাপাশি যে সকল জমিতে ধান হয় না, সেসকল জমিতে ঘাস চাষ করছেন। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে ও ডোবা-নালার পাড়ে ধান চাষের আগ্রহ বাড়ছে কালীগঞ্জের কৃষকদের।

কালীগঞ্জ প্রাণীসম্পদ অফিস জানায়, চলতি বছর ১ লাখ ১৮ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন ঘাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকচং জাতের ঘাস ৬৫৯ একর থেকে ৯৬২০ টন, জার্মান জাতের ঘাস ২৪৩ একর থেকে ৭২৯০ টন ও লাল পাকচং জাতের ঘাস ৬৭ একর থেকে ৮০৪০ টন উৎপাদন হয়েছে। এই লাভজনক ঘাস চাষে প্রাণী পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট বাবদ ১৪ জন কৃষকের মধ্যে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে দুই বারে ১০ হাজার টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। তারা প্রণোদনা বাবদ মোট এক লাখ ৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন। সাইলেজ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য তাদের এই প্রণোদনা দেয়া হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিন শেখের ছেলে ঘাস চাষী কামরুজ্জামান শেখ(৪৫) জানান, ৫ বিঘা জমিতে তিনি ঘাসের চাষ করেছেন। ধান চাষে লাভ নেই কিন্তু ঘাস চাষে ৫ গুণ লাভ। এই জন্য তিনি ঘাস চাষে বেশী আগ্রহী। প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে তিনি ৫ হাজার টাকা বছরে প্রণোদনা পান বলেও জানিয়েছেন। তার মত পাশাপাশি গ্রামের ইব্রাহিম দেওয়ান , মোমেন দেওয়ান সহ অনেকেই ঘাস চাষ করছেন বলে তিনি জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে একদিকে যেমন প্রাণিজ আমিষের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে, অপরদিকে গরুর চারণভূমি দিন দিন কমেই চলছে। আবার উন্নত জাতের গরু পালনে ঘাসের কোন বিকল্প নেই। তাই গরুর উৎপাদন খরচ কমাতে খামরিরা দিন দিন উন্নত জাতের ঘাস চাষের দিকে ঝুঁকছে। আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উন্নত জাতের ঘাসের কাটিং বিতরণ সহ নানাধরণের পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ করতে সচেষ্ট। এতে করে খামরিরা গো খাদ্যের খরচ কমিয়ে লাভবান হচ্ছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *