
ক্যাপশন( বুধবার রাত সাড়ে ১২ টায় টঙ্গী পূর্ব থানায় প্রেস ব্রিফিং করেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: বেলায়েত হোসেন
গাজীপুর: টঙ্গীর কেরানীর টেক মাদক বস্তিতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। এসময় পুলিশ বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ৭ জনকে আটক করেছে। এতে ৪ পুলিশ সহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার(২৯ এপ্রিল) রাত ১১ টার দিকে টঙ্গীর আমতলী কেরানীর টেক মাদক বস্তিতে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: বেলায়েত হোসেন বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে কেরানীর টেক মাদক বস্তিতে অভিযান চালায়। এসময় মাদক কারবারীরা পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করে পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এ সময় মাদক কারবারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। এরপর পুলিশ বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায়। পাল্টাপাল্টি আক্রমণে ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ৪ পুলিশ সদস্য সহ ৫ জন আহত হয়। এক পর্যায়ে মাদক কারবারীরা পিছু হটলে পুলিশ ৭ জনকে আটক করে টঙ্গী পূর্ব থানায় নিয়ে আসে। আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয় যুবদল কর্মী মো: শাহীন আহমেদ রিজভী ও তার স্ত্রী রয়েছেন।
এই অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মো: বেলায়েত হোসেন রাত সাড়ে ১২ টায় টঙ্গী পূর্ব থানার একটি প্রস ব্রিফিং করেন।
আসামীদের ছবি
প্রেস ব্রিফিং এ বলা হয়, বুধবার রাত পৌনে ১০ টায় গোপন সংবাদের ভিতিত্তে সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাবুর রহমান এর নেতৃত্বে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এর ডিবি (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভাগের যৌথ টিম টঙ্গী পূর্ব থানাধীন হিমারদীঘি আমতলী কেরানীরটেক এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে যায়। সেখানে গেলে উক্ত এলাকার একাধিক মাদক মামলার আসামী মোসাঃ রুনা আক্তার রুনা বেগম (৩৪) এর বাসার সামনে পাকা রাস্তার উপর উপস্থিত হলে ধৃত আসামী মোঃ শাহীন (৩৬), মোঃ সোহেল (২৮), মোঃ রায়হান (১৯), রওশন আরা (৩০), সুমি আক্তার (২৪), নূরজাহান (৫৩), ও বিউটি আক্তার (৫৬) ও পলাতক আসামী মোসাঃ রুনা আক্তার রুনা বেগম (৩৮) সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন আসামীদেরকে ধৃত করার প্রাক্কালে সকল আসামীরা চিৎকার চেচামেছি করে ও লোকজন জড়ো করে ডিবি পুলিশের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে কং/১৬৪৩ মোঃ আরিফুল ইসলাম এর ডান পায়ের মধ্যে আঙ্গুলে ও কং/১৩২৮ মোঃ রাকিবুল ইসলাম এর ডান পায়ের মাঝখানে দুইটি আঙ্গুলেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি মারিয়া জখম করে। এএসআই (নিঃ) নুরে আলম, নারী কং/জাহানারা দেরকে উল্লেখিত আসামীরা মারপিট করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। উল্লেখিত আসামীরা পুলিশের সরকারি কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান করিতে থাকিলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও নিজেদের জানমাল ও সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চারটি সাউন্ড গ্রেনেট ফাঁকা বিস্ফোরিত করে। এরপর আসামীরা এদিক সেদিক দৌড়াইয়া পালানোর চেষ্টা করলে উল্লেখিত ৭ জন আসামীদেরকে ধৃত করা হয়। তখন পলাতক আসামী সহ অজ্ঞাতনামা আসামীর দৌড়ে পালিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, টঙ্গী গাজীপুরে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।

