হাতের কাঁপুনিতে পানি পড়ে গেলেও চা বানাতে হয় আশি বছর বয়সী হাবিবুরকে

Slider টপ নিউজ


গাজীপুর: এখন আর ফুটন্ত যৌবনের উন্মাদনা নেই। শিশু কিশোর ও যৌবন পেরিয়ে জীবনের শেষ অংশে দাঁড়িয়ে ভাঙা দেহে দুই চোখ মেলে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু নেই। বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়া আশিতিপর বয়সী মানুষের যখন বিশ্রামে থেকে আরাম আয়েসে জীবন কাটানোর কথা, তখন দুমুঠো ভাতের জন্য চায়ের দোকান করতে হয়। স্পষ্টভাবে কথা বলা ও ভালোভাবে হাঁটাচলা করতে না পারলেও পেটের দায়ে কাঁপা কাঁপা হাতে চা বানাতে হয়। চা বানাতে গিয়ে হাত কাঁপার কারণে সময় বেশী লেগে যায়। তবুও মানবিক কারণে অপেক্ষা করেও চা খায় অনেক কাস্টমার।

টঙ্গী- ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কালীগঞ্জের বাগার পাড়ায় চা বিক্রি করতে দেখা যায় ৮০ বছর বয়সী হাবিবুর রহমানকে।

জানা যায়, ছেলে নেই, দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। স্ত্রীকে নিয়ে সরকারী জায়গায় ঘর করে থাকেন। বয়সের কারণে অন্য কাজ করতে পারেন না। স্বামী ও স্ত্রী মিলে সময় ভাগ করে চায়ের দোকান করেন। সারাদিনে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে বুড়া-বুড়ির সংসার। তবে চা বিক্রি করে কোন মতে ডাল ভাত খেতে পারেন। মনের মত খাবার খাওয়া সম্ভব হয় না।

হাবিবুর রহমান বলেন, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে বাড়ি ছিল। ওখানে এখন কিছুই নেই। সব হারিয়ে কালীগঞ্জে আছি অনেক বছর। আমার দুই মেয়ে, তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে নেই থাকলে হয়ত কষ্ট করতে হতো না। চায়ের দোকান করে থাকা না থাকার মত বেঁচে আছে। তবুও শুকরিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *