
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু নাম আছে, যেগুলো উচ্চারণ হলেই একটি নির্দিষ্ট মূল্যবোধ, দৃঢ়তা ও নৈতিক অবস্থানের ছবি ভেসে ওঠে। শিক্ষা ও প্রশাসনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে এমনই এক নাম ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। দুর্নীতিবাজদের কাছে তিনি ছিলেন আতঙ্কের আর সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের কাছে ছিলেন আস্থার প্রতীক।
বিএনপি আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে ড. মিলন দেখিয়েছিলেন, ক্ষমতা কীভাবে জনস্বার্থে ব্যবহার করা যায়। পরীক্ষায় নকল হচ্ছে—এমন খবর পেলেই তিনি দপ্তরের কাগজে সীমাবদ্ধ থাকেননি। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার নিয়ে ছুটে গেছেন প্রত্যন্ত এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্রে। শুধু উপস্থিত হয়েই থেমে থাকেননি; নকল বা অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের প্রমাণ পেলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। সে সময়ের কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্ক সৃষ্টি করলেও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই—পরীক্ষা ব্যবস্থায় ভয় ও শৃঙ্খলা ফিরেছিল।
তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাব্যবস্থায় শিথিলতা মানেই জাতির ভবিষ্যতের সঙ্গে আপস। তাই ছাত্র হোক বা শিক্ষক, কর্মকর্তা হোক বা প্রভাবশালী—দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি কাউকে ছাড় দেননি। এই দৃঢ়তার কারণেই আজও তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষ, শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলের রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা।
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। আজ শিক্ষা খাতে যেন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, বদলি ও পদোন্নতিতে তদবির, পাঠ্যপুস্তক বিতরণে অনিয়ম, অবকাঠামো উন্নয়নে কমিশন বাণিজ্য, শিক্ষাসামগ্রী ক্রয়ে লুটপাট—সব মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা আজ গভীর সংকটে। এর সরাসরি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তারা মানসম্মত শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে, আর ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে একটি প্রজন্ম, যাদের কাছে সততা নয়, বরং অসৎ পথই যেন সফলতার শর্টকাট।
শিক্ষা শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়; এটি নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ তৈরির প্রধান মাধ্যম। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা কখনোই ন্যায়পরায়ণ ও দক্ষ জাতি গড়ে তুলতে পারে না। বরং এটি সমাজে অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—আগামী দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাদের হাতে যাবে? সচেতন মহলের স্পষ্ট দাবি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যদি সত্যিই দুর্নীতিমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে চায়, তবে ড. মিলনের মতো কঠোর, সৎ ও আপসহীন নেতৃত্বকে সামনে আনতে হবে। এমন কাউকে দরকার, যিনি জনপ্রিয়তার চেয়ে নীতিকে গুরুত্ব দেবেন, চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না এবং প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা করবেন না।
ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনের উদাহরণ প্রমাণ করে—চাইলেই শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। দরকার শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সৎ নেতৃত্ব। দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই পারে একটি ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল জাতি তৈরি করতে। এখন সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে।
