
ঢাকা: প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এই স্তরেই একজন মানুষের চিন্তাধারা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের বীজ রোপিত হয়। তাই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গুণগত মান একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে দুর্নীতির উপস্থিতি সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং জাতি গঠনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতি শিক্ষার গুণগত মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিক্ষক নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষাসামগ্রী ক্রয়ে অনিয়ম শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে এবং তাদের মধ্যে নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠার পরিবর্তে অসৎ প্রবণতা জন্ম নিচ্ছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় দূর্নীতির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—এটি তরুণ প্রজন্মের চরিত্র গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুরা যখন ছোটবেলা থেকেই অবিচার, অনিয়ম ও অসততার উদাহরণ দেখে বড় হয়, তখন তারা সেটিকেই স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে একটি নৈতিকতাবিহীন সমাজ গড়ে ওঠে, যা টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
একটি দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই পারে একটি ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল জাতি তৈরি করতে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা খাতে দুর্নীতি দমন করা গেলে রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দেশ ধীরে ধীরে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে অগ্রসর হবে।
এ কথা অনস্বীকার্য যে, দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষাব্যবস্থা রেখে কখনোই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই সরকার, শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষাকে কলুষমুক্ত করতে পারলেই একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত জাতি গঠন করা সম্ভব হবে ও দেশ উন্নত হবে।
মানুষের আশা আকাঙ্খার অভিব্যক্তিটা প্রতিফলিত হবে।
