গাজীপুরে আ’লীগের প্রার্থী আজমত, স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি নজর নগরবাসীর

Slider রাজনীতি


আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: আজমত উল্লাহ খানকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় প্রার্থিতা ঘোষণার পর টঙ্গীতে আজমত উল্লাহ খানের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দেয়।

দুপুরে কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে টঙ্গী ভরান হাজী মাজার মসজিদ থেকে আজমত উল্লাহ খানের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়।

এ দিকে আজমত উল্লাহ খানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ সমর্থকদের মধ্যে চরম হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। জাহাঙ্গীর আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সমর্থকদেরকে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। অপরদিকে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় কারারুদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহ নূর ইসলাম রনি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে এবার আঁটঘাট বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নামছেন।

টঙ্গীর প্রভাবশালী সরকার পরিবারের সন্তান হিসেবে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সমর্থন রয়েছে রনি সরকারের প্রতি। বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম স্বতন্ত্র বা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নিলে রনি সরকারই হবেন আজমত উল্লাহ খানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এমনই গুঞ্জন চলছে নগরজুরে। অপরদিকে মেয়র পদে গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানও ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। তবে আর কোনো প্রার্থী না থাকলে শেষমেষ আজমত উল্লাহ খান ও সরকার শাহ নূর ইসলাম রনির মধ্যেই হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমনটিই মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

এ দিকে গাজীপুরে আজমত উল্লাহ খান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে বিএনপি। অন্তত: গাজীপুরে এ সরকারের অধীনে সর্বশেষ একটি নির্বাচনী টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে চায় বিএনপি এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে গাজীপুর সিটিতে বিএনপির হেভিওয়েটপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারের নাম ঘোষণা করতে পারে দলটি। বিষয়টি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধরণী মহল ভেবে দেখছে বলে শোনা গেলেও দায়িত্বশীল কোনো সূত্র বিষয়টি স্বীকার করছে না। তবে গাজীপুরে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সরকার শাহ নূর ইসলাম রনির সমর্থনে দলটি নেপথ্যে কাজ করবে বলে নগর বিএনপির একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার নয়া দিগন্তকে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমি যাব না। দলের হাই কমান্ড যদি নির্বাচনে অংশ নিতে বলেন তাহলে আমি প্রস্তুত আছি। যখন বলবে তখনই নির্বাচনী মাঠে অবতীর্ণ হওয়ার মতো সক্ষমতা আছে।

রনির নির্বাচন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন রনি সরকার। এবার সবার জন্য মেয়র পদে নির্বাচন উম্মুক্ত করে দেয়া হতে পারে। এখনো এমন আশায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা। দলীয় বিধি নিষেধ শীতিলের আশায় তারাও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। ফলে এখনই কথা বলার সময় হয়নি বলে তারা রনি সরকারকে জানিয়েছেন।

রনি সরকার দাবি করেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে দলীয় বিধি নিষেধ প্রত্যাহার না হলে নেপথ্যে রনি সরকারের পক্ষেই কাজ করবেন এমন আশ্বাস দিয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক প্রার্থী’।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে ২৫ মে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ এপ্রিল, বাছাই ৩০ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে। নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৯ মে এবং ভোট গ্রহণ হবে ২৫ মে। সব ভোটকেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

গাজীপুর জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৩। এর মধ্যে পুরুষ পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৩, নারী পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ৮১২ এবং হিজড়া ভোটার ১৮ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *