গাজীপুর প্রশাসনে এখন শুধুই বিএনপির গল্প!

Slider টপ নিউজ


গাজীপুর: গাজীপুর জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গনে যে সকল কর্মচারীরা আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপি ও নেতাদের নিয়ে অসংখ্য অনুষ্ঠান করে গলা ফাটিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তাদের মুখে এখন শুধই বিএনপির গল্প। জেলা প্রশাসনের লাভজনক চেয়ারে থাকার জন্য কর্মচারীদের এই আয়োজন। অনেকে আবার দুই/এক জন বিএনপি নেতাদের ডেকে এনে টেবিলের সামনে বসিয়ে রেখে নিজেকে বিএনপি হিসেবে প্রমান করে চেয়ার ধরে রাখছেন। অবাক করা বিষয় হলো, আওয়ামীলীগের সময় গড়ে উঠা সিন্ডিকেট এখন বিএনপির হয়ে উঠেছে কোন বাঁধা ছাঁড়াই। এর কারণ জেলা প্রশাসনের সুবিধাজনক দপ্তরে তদ্বির কাজ করে কাঁচা টাকা উপার্জনের লোভে কিছু কিছু বিএনপির নেতা এখন কতিপয় আওয়ামীলীগ ঘরানার কর্মচারীদের বিএনপির লাইসেন্স দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের বোল পাল্টানোর সাথে সাথে দালাল, চাটুকার ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটও এখন বিনপির হয়ে গেছেন। এতে দালাল সিন্ডিকেটকে আশ্রয় দিচ্ছেন কতিপয় বিএনপির নেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর জেলা প্রশাসনে আওয়ামীলীগের আমলে কর্মচারী সংগঠনগুলো মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করে গলা ফাটিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। পুরো জেলা প্রশাসনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট করে তারা নিজেদের বদলী নিজেরাই জেলা প্রশাসককে দিয়ে করিয়েছেন। কারণ কর্মচারীদের দলীয় প্রভাব দেখে জেলা প্রশাসকেরা কোন কাজে না করতে পারতেন না। সব কাজেই হ্যাঁ বলতে হতো। না করলেই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের আন্দোলনের নজীরও আছে। ৫ আগষ্টে পট পরিবর্তনের পর রাতারাতি সরকারী কর্মচারীরা বিএনপি ও জামায়াতে চলে আসেন। ১৭ ফেব্রুয়ারী বিএনপি সরকার গঠনের পর এখন তারা সবাই বিএনপি হয়ে গেছেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে শোনা যায়, কে কত বড় বিএনপি। আওয়ামীলীগের সময় তারা কি ধরণের শক্তিশালী ভুমিকা বিএনপির পক্ষে রেখেছেন সেই গল্প এখন টেবিলে টেবিলে। পাশাপাশি কার আত্মীয় স্বজন বিএনপির কি কি পদে আছেন বা ছিলেন সেই গল্প এখন উপন্যাস হয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানমতে, কিছু সরকারী কর্মচারী আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপি/জামায়াত থেকে এখন বিএনপি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে বীরের বেশে বছরের পর বছর লাভজনক দপ্তরে কাটিয়ে যাচ্ছেন। গাজীপুর রাজস্ব বিভাগের এল এ ও শাখায় নাজীর কাজী মোজাম্মেল। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগের আমলে চাকুরী নেয়া এই কর্মচারী ১৬ বছরের মধ্যে রাজস্ব শাখার বাইরে চাকুরী তেমন করেননি। টানা ৬ বছর ধরে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এলএও শাখায় বহাল তবিয়তে আছেন। এর আগে তিনি সহকারী ভূমি কমিশনার অফিসে দীর্ঘ সময় চাকুরী করেছেন। মানে চাকুরী জীবনের পুরোটা সময়ই বলা যায় তিনি রাজস্ব বিভাগেই আছেন। চাকুরী নিয়েছেন আওয়ামীলীগ দাবী করে। ৫ আগষ্টের পর বিএনপি কখনো জামায়াত আর এখন খাঁটি বিএনপি। তার অঢেল সম্পদ নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হলেও মোজাম্মেল বলছেন এসব মিথ্যা। তিনি ভালো মানুষ। একই ধরণের অভিযোগ এলএও শাখার সার্ভেযার জাহাঙ্গীর আলম ও কাননগোর বিরদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তারা আউটসোর্সিং কর্মচারী জনৈক মঞ্জুর মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহন করা প্রতিটি ফাইল থেকে জমির মালিকদের সাথে বা মিডিয়ার সাথে শতকরা হার নির্ধারণ করেন। তারপর কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেন। এই অফিস সিন্ডিকেটকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয় এক শ্র্রেনীর দালাল সিন্ডিকেট। আশ্রয় দেয়া দালাল সিন্ডিকেটের মধ্যে বিএনপির নেতা ও কতিপয় সাংবাদিক সহ বিভিন্ন প্রভাবশালী লোক জড়িত। তবে আশ্রয় দেয়া সিন্ডিকেটেরও রাজনৈতিক রঙ পরিবর্তন হলেও দল পরিবর্তন হয়নি। জানা গেছে, আওয়ামীলীগ আমলে যে সিন্ডিকেট এদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিতো, তারাই এখনো রঙ পাল্টিয়ে আশ্র্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এর কারণ এলএও অফিস থেকে দালালী করে কোটি কোটি টাকা নিয়ে বড় লোক হওয়া নেতা, কতিপয় সাংবাদিক ও অন্য প্রভাবশালীরা শব্দ করতে পারেন না। কারণ যারা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন তাদের সকলেই এই বিভাগে ধরা খাওয়া। একই অবস্থা গাজীপুর জেলা পৌরসভা ও সকল উপজেলা প্রশাসনে। সব জায়গায় একই সিন্ডিকেট রঙ পাল্টে বহাল তবিয়তে আছেন।

এদিকে গাজীপুর রাজবাড়ির ভেতরে যে সকল সরকারী কর্মচারীদের সংগঠন আছে, তাদের অধিকাংশ নেতাই রঙে বিএনপি হ্রদয়ে আওয়ামীলীগ। বিএনপি নেতাদের সাথে কৌশলে মিশে তারা এখন বিশাল বিএনপি হয়ে সংগঠনগুলোরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সাথে সুবিধাজনক স্থানে নিজেদের লোক বসিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। একই পরিস্থিতি গাজীপুর জেলা পরিষদ, সিটিকরপোরেশন, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সহ সকল সরকারী দপ্তরের।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকারী কর্মচারীদের লুকায়িত চেতনা গোপন রাখার সংবাদ উপর পর্যন্ত পৌছে না। কারণ যারা পৌছাবেন তারাও একই ধরণের অপরাধী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *