বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ অবশেষে শুরু হয়েছে, জমি অধিগ্রহণের কাজও!

Slider বাংলার সুখবর


মাসুদ রানা সরকার, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের উভয় প্রান্তে জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলছে রেলপথ নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া। এই রেলপথটি নির্মাণকাজ শেষ হলে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের মানুষের সহজ যাতায়াত নিশ্চিতসহ রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর ১১২ কিলোমিটার দূরত্ব কমে আসবে।

জানা যায়, এ রেলপথ নির্মাণ শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে অল্প খরচে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপণ্যসহ কৃষিপণ্য সারা দেশে পরিবহন করা যাবে। গতিশীল ও শক্তিশালী হবে এসব জেলার গ্রামীণ অর্থনীতি। ইতিমধ্যেই বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয় রেলপথ নির্মাণের জন্য বিভিন্ন স্টেশনসহ জায়গা পরিদর্শন করেছেন। তাছাড়া সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় জেলা প্রশাসক, দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন রেলপথ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৪৪ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেলপথের ডাবল লাইনের জন্য এসব জমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রথমে ডুয়েল গেজ লাইন এবং পরবর্তীতে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল করবে। রেলপথে মোট ৯টি স্টেশন তৈরি করা হবে। এগুলো হচ্ছে—মনসুর আলী, রায়পুরের পাশে একটি স্টেশন, নলকা কৃঞ্চদিয়া, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, ছোনকা, শেরপুর, আড়িয়া বাজার, রাণিরহাট। এর মধ্যে মনসুর আলী স্টেশনে জংশনসহ মোট তিনটি জংশন তৈরি হবে। বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত আরো তিন কিলোমিটার রেলপথ তৈরি করায় ট্রেনগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু পার হয়ে সারা দেশের সঙ্গে চলাচল করতে পারে। এসব স্টেশনের বাইরে বগুড়ার কাহালুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হবে রেলপথের। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ হলে ২০০ কিলোমিটার পথ কমে দূরত্ব হবে মাত্র ৭২ কিলোমিটারে।

রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হূদয় জানান, এই রেলপথ নির্মাণ বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, চালসহ সব ধরনের কৃষিপণ্য সারা দেশে বাজারজাত করতে পারবে। একই সঙ্গে মানুষের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রেলপথ নির্মাণকাজের জন্য অধিগ্রহণ কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছি। আশা করছি, চলতি বছরেই আমরা প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি)-এর যৌথ অর্থায়নে এই রেলপথ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে। এই রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও তা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলা অবস্থায় আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *