আমরা টেকসই উন্নয়ন করতে চাই,: ওয়াদুদ

Slider গ্রাম বাংলা

 Wadud_bg520170114131339

 

 

 

 

 

ঢাকা; বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সড়ক পথের পাশাপাশি নৌ ও রেল পথকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ জনসংখ্যার অধিক চাপ থাকায় শুধু একটি পথকে দিয়ে যোগাযোগের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে না। আমরা যদি টেকসই উন্নয়ন করতে চাই, তাহলে শুধু সড়কপথ নয়, রেলপথ, নৌপথ, বিমানপথসহ সার্বিক যোগাযোগ খাত নিয়ে ভাবতে হবে। সব নিয়ে একত্রে চিন্তা করলেই শুধু ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। আজকে যখন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে তখন শুধু সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কীভাবে করা যায় তা নিয়ে ভাবা হয়- এটা ভাবলে চলবে না। আমাদের সমস্যার একটু গভীরে গিয়ে ভাবতে হবে।

এছাড়া রাজধানীর যানজট নিরসনে সড়কের স্বল্পতা রয়েছে। ঢাকায় সড়ক পথে যান চলাচলের জন্য যেখানে ২৫ শতাংশ রাস্তার প্রয়োজন সেখানে রয়েছে মাত্র ৯ শতাংশ। এটা যানজটের বড় কারণ। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ হয়েছে, আরো হচ্ছে। এতে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেনি। এছাড়া মেট্রোরেল নির্মাণসহ আরো নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে।

পরিবহন ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়েছে এবং বর্তমানে ভূমি, পানি ও আকাশ পথে বহুবিধ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনও সব প্রকৃতির পরিবহন ব্যবস্থার প্রচলন নিশ্চিত করতে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

শনিবার তেতুলিয়া পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ মাসুম বর্তমানে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবহন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে এসব কথা বলেন।

আবদুল ওয়াদুদ মাসুম বলেন, আমাদের অর্থনীতি দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এটাকে খুব বড় করে দেখি। বিদ্যুৎ বাড়লে অনেক নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠবে। দেশের নানা প্রান্তে শিল্প কারখানা গড়ে ওঠলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধা পেতে চাইলে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের বিকল্প নেই। এটিকে বিশৃঙ্খল ও অপরিকল্পিত রেখে সার্বিক বা দ্রুতগতির উন্নতি হবে না।

দেশে মানুষ বাড়ছে সেই সঙ্গে পরিবহনের সংখ্যাও, পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত- এ নিয়ে পরিবহনের এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। এর সঙ্গে বহুমাত্রিক সমস্যা রয়েছে। শুধু সরলীকরণ করে এ সমস্যার সমাধান করা যায় না। আমরা যদি টেকসই উন্নয়ন করতে চাই, তাহলে শুধু সড়কপথ নয়, রেলপথ, নৌপথ, বিমানপথসহ সার্বিক যোগাযোগ খাত নিয়ে ভাবতে হবে। সব নিয়ে একত্রে চিন্তা করলেই শুধু ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। আজকে যখন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে তখন শুধু সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কীভাবে করা যায় তা নিয়ে ভাবা হয়- এটা ভাবলে চলবে না। আমাদের সমস্যার একটু গভীরে গিয়ে ভাবতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকই দায়ী নয় মন্তব্য করে আবদুল ওয়াদুদ মাসুম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালক, কিছু মালিক, বিআরটিএ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, পথচারী সবাই কম-বেশি দায়ী। তবে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা আস্তে আস্তে কমে আসছে। এ সংখ্যা আরো কমিয়ে আনতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা ব্যক্তি গতভাবে সব চালককেই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যায়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব মালিক যদি নিজ উদ্যোগে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন, তাহলে আমার মনে হয় সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে। পাঁচটি কাজ করলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। সেগুলো হলো- দ্রুতগতিতে গাড়ি না চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করা, ওভার কনফিডেন্স পরিহার করা, ওভারলোড বন্ধ করা এবং গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা। দুর্ঘটনারোধে সব মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে করণীয় ঠিক করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। আর দুর্ঘটনারোধে প্রচারণা চালাতে হবে।

 

রাজধানীর যানজট নিয়ে আবদুল ওয়াদুদ মাসুম বলেন, এখানে গণপরিবহন চলাচলের জন্য সড়কের স্বল্পতা রয়েছে। যেখানে ২৫ শতাংশ রাস্তা দরকার সেখানে ঢাকায় আছে মাত্র ৯ শতাংশ। বাস চলাচলের জন্য এর পরিমাণ আরো কম- চার শতাংশের কিছু বেশি। তবে সরকার নতুন করে পরিবহন সেক্টরকে ঢেলে সাজানোর জন্য কাজ করছে। এছাড়া ২০১২ সালের সব পুরাতন গাড়ি বাদ দিয়ে নতুন গাড়ি নামানো হচ্ছে যাতে যাত্রীরা শতভাগ সেবা পান। তবে এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।

দেশে অনেক ব্যবসা থাকতে পরিবহন ব্যবসা বেছে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবহন ব্যবসা সেবামূলক। মানুষের সেবা করার জন্যই আমি পরিবহন ব্যবসায় আসি।

আর নিজ পরিবহনের নাম তেতুলিয়া রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বেদনাদায়ক। কারণ তেতুলিয়া নদী আমাদের সব কিছু বিলীন করে নিঃস্ব করেছিল। আর তাই ওই নদীর নামেই আমাদের কোম্পানির নাম রাখা।

আবদুল ওয়াদুদ মাসুমের শৈশব এবং লেখাপড়া গ্রামে। বাড়ি ভোলা জেলায়। বাবা খোরশেদ আলম ছিলেন একজন কৃষক। আবদুল ওয়াদুদ মাসুমরা ছিলেন আট ভাই-বোন । তার মধ্যে তিনি সবার বড়। ভোলা জেলার ব্যাংকার হাট স্কুল থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি এবং ভোলা সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে ঢাকায় এসে বাংলা কলেজে ভর্তি হন। এ সময় তাদের আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। এক সময় তাদের অনেক সম্পদ ছিল কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নদীতে সব হারিয়ে ফেলেন তারা।

১৯৮৭ সালে ঢাকায় এসে চাচা অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমানের বাসায় উঠেন। তখন আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবারের হাল ধরতে লেখাপড়ার পাশাপাশি গামের্ন্টসে চাকরি নেন। চাকরি নেওয়ার পর থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি। শুধু সফলতা আর সফলতা। জ্ঞানের পরিধি আর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিন বছরের মধ্যেই গার্মেন্টস-এর প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি হয়। ১৯৯০ দশকে তার বেতন ছিল ৭ হাজার টাকা। কয়েক বছর চাকরি করার পর মোটামুটি ভালো অবস্থানে ফিরে আসেন ওয়াদুদ মাসুম। ২০০১ সালে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংস হওয়ার পর গামের্ন্টস ব্যবসায় একটু মন্দা চলে আসে। তখন কী করবেন ভেবে চাচার কাছে চলে আসেন পরামর্শের জন্য। আর চাচা মাহবুবর রহমান ছিলেন বিকল্প পরিবহনের মালিক। চাচার পরামর্শেই পরিরহন ব্যবসায় আসেন তিনি। শুরু হলো এক নতুন পথ চলা। আজ তিনি তেতুলিয়া পরিবহনের মালিক। তার ৭৫টি বাস শিয়া মসজিদ থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত চলাচল করে। প্রতিদিন ৩০ হাজার যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে তেতুলিয়া পরিবহন। এছাড়াও তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অসহায় পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *