ছাত্রলীগ নেতার যৌন হয়রানির শিকার জাবির ছাত্রী

Slider নারী ও শিশু

75254_ju

 পহেলা বৈশাখের দিনে যৌন নিপীড়নের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতা কতৃক যৌন নিপীড়নের শিকার হলেন আরেক ছাত্রী। গত বুধবার বিকেলে ক্যাম্পাসের বাসে ঢাকা যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ তম ব্যাচের এক ছাত্রী। যৌন নিপীড়নের শিকার ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে সাংবাদিকদের কাছে শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমি বাসা থেকে ফিরে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করবো। ওই ছাত্রী জানান, বুধবার ফাইনাল পরীক্ষা শেষে আমি আমার বোনের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাসে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। আমরা দুই বোন পাশাপাশি সিটে বসে ছিলাম। এমন সময় ৪০ তম ব্যাচের সীমান্ত ভাই আমাদের সামনে এসে একটি সিগারেট ধরান এবং সিগারেট নিয়ে লেকচার দিতে শুরু করেন। তিনি আমাদের শুনিয়ে জোরো জোরে বলতে থাকেন, ‘সিগারেট স্বাস্থের জন্য খারাপ, সম্পদের জন্য ভালো। সামারটা অনেক হট, আশেপাশে অনেক হট। সিগারেট খাওয়া যাবে না, সিগারেট খাইলে কারাদ- হবে’। এ সময় তিনি অনেকবার আমার আপুর গায়ের সঙ্গে ধাক্কা দেন। এছাড়া আমাদের উদ্দেশ্য করে আরো অনেক আজে-বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। একই সময়ে ৪০ তম ব্যাচের টিটু ভাই দূর থেকে আমাদের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকান। এরপর তিনি আমাদের সামনে এসে বসেন এবং শরীর সম্পকীয় কূটুক্তি করেন। এ সময় আমি ওনাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি আমাদের দিকে বাজে ভাবে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। তখন আমরা ওই সিট থেকে উঠে অন্য সিটে গিয়ে বসি। তারপরও তিনি উল্টো ঘুরে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর গুলিস্থানে নামলে তারা কয়েকজন আমাদের ঘিরে দাঁড়ান। আমাকে বলেন, ‘তুমি পরিচিত তাই কিছু করলাম না, অন্য কেউ হলে অবস্থা খারাপ হতো। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন, শাখা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটু, শহীদ রফিক-জব্বার হল শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সজিব কুমার সাহা, নাটক ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মাজেদ সীমান্ত। অভিযুক্তরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ তম ব্যাচের ছাত্র। এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মাজেদ সীমান্ত বলেন, ‘ওই মেয়ে আমাদের ক্যাম্পাসের পরিচিত ছোট বোন। তার পাশে বসে সিগারেট খাওয়ায় তার বড় বোন আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে।’  ছাত্রলীগ নেতা সজিব কুমার সাহা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি মেয়েটার পাশে ছিলাম। মেয়েটা ক্যাম্পাসে আসলে তার সাথে কথা বলবো।’ আর অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মহিতোষ রায় টিটুকে অকাধিকবার ফোনে করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *