দাবি আদায়ে বিএনপি আন্দোলনের পরিকল্পনা কষছে

Slider রাজনীতি


নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের কর্মপরিকল্পনা কষছে বিএনপি। এই নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে মাঠে নামলেও দলটির মূল দাবি থাকবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। এই দাবি আদায়ের মধ্য দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় দলটি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের দিকে খেয়াল করলেই বোঝা যাবে, শুধু নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হলেই যে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই। এটিই আমাদের মূল দাবি। গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানেও এসব দাবি আদায়ে নেতাকর্মীদের আগাম আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহŸান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলের একাধিক নেতা বলেন, স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ও নির্র্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। এই অবস্থায় আগামী বছরের ১৪ ফেব্রæয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসি গঠনে সরকারবিরোধী ডান ও বাম সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে আনার চেষ্টা করছে দলটি। ইতোমধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়াতে চেষ্টা করবেন দলের দায়িত্বশীলরা।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী মধ্যপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের দলের অবস্থান পরিষ্কারÑ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবার সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে চলব। ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখব। এ কারণে হেফাজতের আমির জোনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শোকবার্তা দিয়েছেন। এরপর স্থায়ী কমিটির সভাতেও হেফাজত আমিরের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব পাস হয়েছে।

দলটির নেতারা মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ইসি গঠন না হলে এই ইস্যুকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। সেক্ষেত্রে বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের গতি বাড়ানো হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন হলেই চলবে না, নিরপেক্ষ সরকারও চায় দলটি। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। এটা দেশে-বিদেশি সংশ্লিষ্ট সবাই অবগত। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিকে শক্তিশালী করতে পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রæত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের নামার আগে দলের মূল শক্তি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের সব পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, যারা রাজপথে থাকতে পারবেন তাদেরই মূল নেতৃত্বে আনার পক্ষে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে অনুযায়ী তিনি প্রতিটি কমিটি সাজাচ্ছেন। পুনর্গঠনের সঙ্গে জড়িত দুই নেতা বলেন, আন্দোলন সফল করতে দলের যেসব জেলা বা মহানগর কমিটি নিষ্ক্রিয় তা ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আমান উল্লাহ আমান বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনকে গুছিয়ে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। জনগণের দল হিসেবে বিএনপি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তাদের এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্র্বাচনে একটি আসনের বিপরীতে চ‚ড়ান্ত প্রার্থীর বাইরেও একাধিক নেতাকে দলীয় মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছিল। মূল প্রার্থীসহ অন্য সবাইকেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে ক‚টনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীলরা। এরই মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশের ক‚টনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলের দায়িত্বশীল দুই নেতা। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রসঙ্গ টেনে দলের এক ভাইস চেয়ারম্যান আমাদের সময়কে বলেন, ২০২৩ সালের শেষ দিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। দেশে ভোটের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তার সমাধান কেবল মুখে মুখে সম্ভব নয়Ñ এটা প্রমাণিত। এই অবস্থায় আন্দোলনই একমাত্র বিকল্প পথ। আর সেই আন্দোলনকে কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে। এই আন্দোলনে সফল হতে না পারলে, দল হিসেবে বিএনপি আরো নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *