সরকার পতনে রাজপথে নামতে বললেন বিএনপি নেতারা

Slider জাতীয়


ঢাকা: বিএনপির নেতারা মনে করেন, বক্তৃতা, আলোচনা সভা করে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। তাঁরা বলেছেন, ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে হটাতে হবে।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মিলনায়তনে দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে ঐক্য গড়ে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘শুধু বক্তৃতার মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো সম্ভব হয় না। তাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব “স্বৈরাচার হটাও, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” এই স্লোগানকে ধারণ করে আগামী দিনের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা, গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এটাই হোক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শপথ ও প্রত্যয়।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠার পেছনের কথা উল্লেখ করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণের জন্য বিএনপির জন্ম হয়। আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভয় পায়। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, জনগণকে মুক্ত করতে হবে।

দলের মধ্যে ঐক্য তৈরির কথা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আসুন আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে সমস্ত ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো ভুলে গিয়ে আমরা নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করি। দলের মধ্যে ঐক্য তৈরি করতে হবে। দলকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে, জনগণের কাছে চলে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, নিজেদের শক্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। অল্প সময়ের মধ্যে দল সম্পূর্ণভাবে সংগঠিত হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে সরকারের পতন ঘটাবেন বলে জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির জন্ম হয়েছিল আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কারণে। বিএনপির জন্ম হয়েছিল এমন একটি রাজনৈতিক শূন্যতায়, যে শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী লীগ। জিয়াউর রহমানের ডাকে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যখন আওয়ামী লীগ নিজের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য ৭৫ সালে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করল, তখন যে শূন্যতার সৃষ্টি করল, তা পূরণের জন্যই জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।’

রক্ষী বাহিনীর দ্বারা হাজার হাজার তরুণ হত্যা করা হয়েছিল, দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ বলে তাদের হাতে নাকি রক্ত নেই। তাদের হাতে সবচেয়ে বেশি রক্ত। অন্যায় করে কেউ টিকতে পারেনি, পারবে না।’ তিনি নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপির শক্তি হলো আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ থেকে এই আওয়ামী লীগের কারণেই জাতীয়তাবাদী দলকে কোনো দিন নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। তাদের কারণেই বিএনপি থাকবে। বিএনপির সংকটসময় অবস্থা চলছে জানিয়ে এই নেতা বলেন, অনেকেই হতাশ। এই ১২ বছর তেমন কোনো সময় নয়। তিনি দলের নেতা–কর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় অনেক চেষ্টা করছেন জানিয়ে মওদুদ বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আদালতের কোনো সহানুভূতি তাঁরা পান না। একমাত্র পথ রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তি।

মওদুদ বলেন, ‘আগে জানতাম পুলিশের নির্যাতন। এখন শুরু হয়েছে বিচারিক নির্যাতন। বিচারালয়ে গিয়ে আমরা বিচার পাই না, বিরোধী দল করি সেই জন্য। আগে সুপ্রিম কোর্টে এই ধরনের আচরণ পাইনি।’

রাজপথে প্রতিযোগিতা করতে হবে বলে উল্লেখ করে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে প্রতিযোগিতা করলে আর সুন্দর সুন্দর কথা বললে জনগণ আশ্বস্ত হবে না। জনগণ মুক্তির জন্য ছটফট করছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি আর জনগণের মুক্তি একই সূত্রে গাঁথা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির দায়িত্ব আছে জনগণের পাশে থাকা। জনগণকে ডাক দিলে তারা আসতে প্রস্তুত। আমরা ডাকব কি না, তা আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভয়কে জয় ও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে না পারলে গণতন্ত্রের মুক্তি, খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির একমাত্র দল বিএনপি। সেই দল শুধু বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্য দিয়ে, আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে জনগণ হতাশ হবে। আর ষড়যন্ত্রকারীরা আস্ফালন করবে।’ ঘরে বসে না থেকে দলের ৪২ বছর অতিক্রম করার আগেই জনগণকে ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কথা বলেন তিনি।

জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, ‘হলের ভেতরে স্লোগান দিয়ে, পোস্টার–ব্যানার লাগিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে রাজপথে নামতে হবে।’
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া বলেন, যারা ঐক্য নিয়ে কথা বলছেন, তাঁরা সময়মতো জবাব পাবেন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব–উন–নবী খান সোহেল, এলডিপির সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান আহমেদ, পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমির মাওলানা রকিবউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *