ছয় দিনের সফরে চীন গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Slider গ্রাম বাংলা জাতীয় টপ নিউজ ঢাকা ফুলজান বিবির বাংলা বাংলার মুখোমুখি বাংলার সুখবর রাজনীতি সারাদেশ সারাবিশ্ব

ড়ম

ফাহিমা নূর

বিভাগীয় সম্পাদক(ফূলজান বিবির বাংলা)

গ্রাম বাংলা নিউজ২৪.কম

ঢাকা: ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে রয়েছেন ৭০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

শুক্রবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট চীনের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বিমানটি চীনের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় কুনমিং চাংশুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত জানুয়ারি মাসে সরকার গঠন করার পর চীনে এটি তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর এবং দ্বিতীয় বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রী চীন সফর শেষে ১১ জুন হংকং হয়ে দেশে ফিরে আসবেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে ৭০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন যাচ্ছেন।

আগামী ৯ জুনে চীনের গ্রেট হলে বাংলাদেশ ও চীনের দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রী লী কেজিয়াং-এর সাথে এক যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষর করবেন। গ্রেট হলে তার সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। চীনা প্রধানমন্ত্রী লী তার সম্মানে এক ভোজসভার আয়োজন করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সফরের প্রথম পর্যায়ে কুনমিং যাবেন এবং সেখান থেকে রোববার চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন।

চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আজিজুল হক এবং সে দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সোজা গ্রীন লেক হোটেলে যাবেন। কুনমিং অবস্থানকালে তিনি এই হোটেলেই থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী ৮ জুন বীর জনতার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তিনি বেইজিংয়ে চাওইয়াং থিয়েটার ও এ্যাক্রোবেটিক ওয়ার্ল্ড পরিদর্শন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ৯ জুন চীন ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিসে (সিআইআইএস) এক সেমিনারে ভাষণ দেবেন। ১০ জুন তিনি বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীন ট্রেড অ্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন ফোরামেও বক্তৃতা করবেন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং-এর সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং গ্রেট হল অব পিপলসে চীনের পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের চেয়ারম্যান জু ঝেংশেং-এর সাথে বৈঠক করবেন।

শেখ হাসিনা কুনমিংয়ে দ্বিতীয় চীন সাউথ এশিয়া এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং ৬ জুন জুনান প্রদেশের গভর্নর লী জিহেংয়ের দেয়া এক ভোজসভায় যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ৭ জুন নবম চীন-সাউথ এশিয়া ব্যবসায়ী ফোরামে প্রধান বক্তা হিসেবে যোগ দেবেন।
এরপর তিনি স্টোন ফরেস্ট পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় জুনান প্রদেশের গভর্নর প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার হোটেল স্যুটে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী চীন সফরকালে সিসিটিভি, ফিনিক্স টিভি, ইউনান টিভি এবং চীনা রেডিও ইন্টারন্যাশনালের বাংলা বিভাগকে সাক্ষাৎকার দেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে সোনাদিয়া দ্বীপ সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের সহযোগিতা কামনা। পাশাপাশি বাংলাদেশের পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন, ন্যাশনাল আইসিটি ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক ফর বাংলাদেশ সরকার ফেস-৩, রাজশাহী ওয়াসা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, কর্ণফুলী নদীতে কনস্ট্রাকশন অব মাল্টি-লেন ভিত্তিক টানেল, চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর দ্বিতীয় রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম-রামু-কক্সবাজার ও রামু-গুনধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা চাওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের নতুন নেতৃত্বের সাথে আলোচনা।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে ৭০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন যাচ্ছেন।

চীনের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৪০ বছর পূর্ণ হবে আগামী বছর। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চীনের সাথে সম্পর্ক জোরদারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *