জন ট্রাভোল্টা ও টম ক্রুজ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ নিজেরাই চালাতে ভালোবাসেন। হলিউড তারকাদের এমন শখের খবর পুরোনো। কিন্তু কোনো সরকারপ্রধান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের যাতায়াতে নিজেই পাইলটের আসনে বসেছেন, এমনটা খুব কমই দেখা যায়। ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়ুহা সিপিলা সে রকমই একজন।
বিমান চালনার প্রতি সিপিলার আগ্রহ অনেক। একই সঙ্গে তিনি সরকারি খরচ কমানোর ব্যাপারেও খুব সচেতন। জনগণ বা করদাতাদের অর্থের অপচয় তাঁর অপছন্দ। এ কারণেই তিনি সরকারি সফরের সময়ও মাঝেমধ্যে বেসরকারি জেট বিমান ব্যবহার করেন এবং নিজেই সেটি চালান। ভাড়াটাও নিজে দেন, ফলে সাশ্রয় হয় সরকারের।
মিতব্যয়ী এই সাবেক ব্যবসায়ী ২০১৫ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে ১৯টি সরকারি সফরের সময় নিজেই পাইলটের কাজ সেরে ফেলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এ তথ্য দিয়েছে।
৫৫ বছর বয়সী সিপিলা গত বছর ফিনল্যান্ড থেকে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোর পর্যন্ত পাঁচ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ নিজেই বিমান চালিয়ে পাড়ি দিয়েছেন। সেখানে তিনি এশিয়া ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেন। আরেকবার তিনি ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার উড়োজাহাজ চালিয়ে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাজনীতির জগতে পা রাখার আগে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী হিসেবে বিপুল পরিমাণ আয় করেছেন প্রকৌশলী সিপিলা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ফিনল্যান্ডের অর্থনীতিকে উন্নয়নের ধারায় ফেরানোর অঙ্গীকার করেন। নিত্যদিনের কাজে সেই প্রমাণও দিচ্ছেন। তিনি যে বিমানগুলো চালান, সেগুলো অন্যদের। তিনি নিজ খরচে সেগুলো ভাড়ায় নিয়ে ব্যবহার করেন।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে সিপিলা দুই দফা পালমোনারি এমবোলিজম রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাই সফরসঙ্গী নিয়ে তাঁর উড়োজাহাজ চালনার সময় নিরাপত্তা সংশয়ের প্রশ্ন উঠেছিল। তখন কর্মকর্তারা জবাব দেন, প্রধানমন্ত্রীর অসুখটা সেরে গেছে। তাই দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
সরকারের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ইয়ারি ইলিতালো বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিমান চালনা মোটরগাড়ি চালনার চেয়ে নিরাপদ। প্রধানমন্ত্রী সিপিলার বিমান চালনার লাইসেন্স আছে। তিনি একজন অভিজ্ঞ পাইলট। কাজেই উড়োজাহাজটা ঠিক থাকলেই হলো।
সিপিলা সব সময়ই যে বিমান চালান, তা নয়। মাঝেমধ্যে বাণিজ্যিক বিমানেও চড়েন।