ফ্রান্সে জনতার ওপর সন্ত্রাসী ট্রাক-হামলা, নিহত বেড়ে ৮০

Slider সারাবিশ্ব

dead-bg20160715082955

 

 

 

 

ঢাকা: ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরে বৃহস্পতিবার জনতার ওপর দ্রুতগতির ট্রাক-হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শখানেক। আহত-নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু ও নারী রয়েছে। স্পষ্টতই এটি একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ফ্রা‍ঁসোয়া ওলাঁদ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নিহতের সংখ্যা ৭৭ জন বলে উল্লেখ করেন। তিনি এ ঘটনার পর জরুরি অবস্থা আরও তিন মাস বাড়িয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, প্রথমে শহরটির একজন সাবেক মেয়র টুইট করে তাদের এই সংবাদ জান‍ান। আর বিএফএম—টিভি (BFM-TV)  ট্রাকের আরোহীদের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছে।

শহরের বাসিন্দারা এদিন বাস্তিল দিবস উদযাপন করছিলেন। এ উপলক্ষে বহু লোক ছিলেন রাস্তায়। এ সময় দ্রুতগতির ট্রাকটিকে চালক ইচ্ছা করেই জনতার ওপর উঠিয়ে দেন। শহরের বিখ্যাত প্রমেনেদ দে আঁগলাইস এ হর্ষোৎফুল্ল জনতা যখন আতশবাজি পুড়িয়ে আনন্দ উদযাপনে মত্ত তখনই ট্রাকচালক এই সন্ত্রাসী কাণ্ড ঘটান।

টুইটারে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায় প্রায় ডজনখানেক আহত-নিহত মানুষ রাস্তার ওপর পড়ে আছেন। শহরের বর্তমান মেয়র (রিজিওনাল কাউন্সিল অব প্রভেঁস-আল্পস কো-তে দ্য আজুর-এর প্রধান) ক্রিস্তঁ এস্তরোসি শহরের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় বলেন, ‘প্রিয় নিসবাসী, ট্রাকচালক বহুলোকের মৃত্যু ডেকে এনেছে’।
নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং একে ‘হামলা’ বলে বর্ণনা করে তিনি শহরের বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়ির বাইরে বের না হ্‌ওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন: ‘এ মুহূর্তে প্রত্যেকে নিজেদের ঘরে থাকুন’।

একজন কর্মকর্তা এই সন্ত্রাসী ট্রাক-হামলায় প্রাথমিকভাবে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নিহতের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছেছে বলে জানায়। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিস মাতাঁ (Nice Matin) নামের স্থানীয় একটি পত্রিকার এক সাংবাদিক জানান, পুরো এলাকা রক্তে একাকার হয়ে আছে। বহু লোক হতাহত হয়েছেন।

আতঙ্কিত লোকজন প্রাণভয়ে দিশেহারা হয়ে ছোটাছুটি করছিল বলে সামাজিক মাধ্যমগুলো অনেকেই জানাচ্ছেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিএফএম টিভিকে বলেন:  ‘‘ সবাই চি‍‍ৎকার করে বলছিল,ছুটে পালাও, ছুটে পালাও। হামলা হয়েছে।  পালাও পালাও পালাও।’’

তিনি বলেন, ‘‘গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে প্রথমে আমরা ধারণা করেছিলাম, এগুলো বুঝিবা আতশবাজির শব্দ। সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। আমিও দৌড়ে পালাচ্ছিলাম। আমরা দৌড়াচ্ছিলাম কারণ আমরা চাচ্ছিলাম কোনো একটা হোটেলে ঢুকে নিজেদের বিপদমুক্ত করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *