
ক্যাপশন(শুক্রবার রাত আটটায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর মিলগেট থেকে তোলা)
গাজীপুর: গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ভুল মামলা নেওয়া ও আসামি গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে জনতা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করায় হুমকিতে পড়ে নিরাপত্তা চাইলো ভিকটিমের পরিবার।
শনিবার(১৮ জুলাই) সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে, টঙ্গীর জিন্নাত মহল্লা বস্তিতে সাত বছরের এক শিশুকে ১২ জুলাই সকাল ১০টায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন স্থানীয় বিপ্লব(৩২) নামে এক বখাটে। মাদক কারবারী বিপ্লব এর আগেও একাধিক নারীকে শ্লিলতাহানী করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনার পর মেয়েকে ভয় দেখানোর কারণে সে কাউকে বলেনি। ১৪ জুলাই মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মাকে ঘটনা জানায়। অত:পর চারপাশে জানাজানি হলে ভিকটিমের মা মেয়েকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করতে যায়। এদিকে স্থানীয় জনতা সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামী বিপ্লবকে আটক করে স্থানীয় ফারুক নামে এক ব্যবসায়ির বাসায় আটকে রাখে। ভিকটিমের পক্ষ থেকে বার বার থানায় ফোন করে পুলিশ আনতে না পেরে জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ ফোন করা হয়। এরপরও পুলিশ আসেনি। এদিকে মামলা না নিয়ে আপসের কথা বলে ভিকটিমের পরিবারকে ফেরত দেয় পুলিশ। আর সময় ক্ষেপন করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআই রুকুন আসার আগেই আটক বিপ্লবকে ছাড়িয়ে নেয় প্রভাবশালীরা। ১৫ জুলাই ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার জন্য বিভিন্ন দিকে দৌঁড়ঝাপ শুরু করলে ১৬ জুলাই পুলিশ মামলা গ্রহন করে। তবে মামলার বাদী ও ভিকটিমের মায়ের অভিযোগ, আমি লেখাপড়া জানিনা। আমার মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে কিন্তু পুলিশ একটি কাগজ লিখে তাতে তার স্বাক্ষর নিয়েছে। থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আশিক থানার ভেতরে জনৈক আলমকে দিয়ে এজাহার লিখে এনে স্বাক্ষর নেয় বলে তিনি জানান। থানায় নথিভুক্ত এজাহারে দেখা যায়, মামলাটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে।
এদিকে সাত বছরের শিশু ধর্ষণের ভুল মামলা করা ও আসামী গ্রহন করার অভিযোগে শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে স্থানীয় মিলগেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দুই ঘন্টা অবরোধ করে স্থানীয় কয়েকশত জনতা।
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইন্ধনে প্রথমে মামলা নেয়নি পুলিশ। আর ইন্ধনদাতারা জনতার হাতে আটক আসামি বিপ্লবকে টাকার বিনিময়ে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু পরে মামলা নিলেও ধর্ষনের মামলা না নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা নেয় পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষক বিপ্লব ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। একই সাথে দ্রুত আসামী গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি করেন ভিকটিমের বাবা। তবে একমাত্র মেয়ে ধর্ষণের ঘটনায় ভুল মামলা নিয়ে আবার হুমকি দেয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, এখন আমার পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তা চাই, ন্যায় বিচার চাই।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক(এএসআই) আশিকুর রহমান বলেন, কোন চাপ দেয়া হয়নি। এজাহার বাদীর কথা মতই হয়েছে। আপসের জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়। পরিদর্শক(তদন্ত) বিষয়টি জানেন।
একই থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) রুকন জানান, জরুরী সেবার কল পেয়ে ৪০ মিনিটের মধ্যেই গিয়েছি আমি, গিয়ে দেখি আসামী চলে গেছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমানুর রহমান বলেন, বাদীর কথামতই মামলা হয়েছে। ঘটনাটা যা তাই মামলায় আছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার টেবিল পর্যন্ত আসেনি। ধর্ষন মামলা হলে সমস্যা কোথায়। তবে আসামী গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
