গাজীপুর: ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক মিছিলে গাড়ি বহর থেকে একাধিক ফাঁকা গুলির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল এলাকার জনৈক রাসেল আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলা করলে আসামীকে গাজীপুর আদালতে আসামীকে পাঠায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার(১৪ জুলাই) সন্ধ্যার পর মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত শামীম (৪০) কালীগঞ্জের পোটান গ্রামের হাফিজ উদ্দিন মাষ্টারের ছেলে।
সরেজমিন জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে নোয়াপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা চিহ্নিত মাদক কারবারি রুহুল আমিনের বাড়ি থেকে মাদকসেবী সন্দেহে বের হওয়া কয়েকজনকে আটক করে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে রুহুলকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কারো সাথে মাদক না পাওয়ায় সবাইকে ছেড়ে দেয়। মাদকসেবী ও কারবারীকে ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নোয়াপাড়া চৌরাস্তায় একটি মিছিলের আয়োজন করে। মিছিল শুরু হওয়ার সাথে সাথে সকালের ঘটনার জের ধরে রুহুল আমিনের ছেলে আদিবের নেতৃত্বে ৭/৮টি প্রাাইভেট কার ও ১০/১২টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে মিছিলকে উদ্দেশ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। গুলি করার সময় বহরের গাড়িগুলোর গ্লাস তোলা ছিল এবং মোটরসাইকেল আরোহীরা হেলমেট পরিহিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সামনে থেকে গাড়ি বহর ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দালান বাজার ও গাজীপুরের দিকে চলে যান। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের নোয়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মহড়ার সময় রুহুল আমিন ও তার ছেলে বহরে উপিস্থিত ছিলেন। তাদের সাথে স্থানীয় একাধিক পরিচিত ব্যাক্তিদেরও সকলেই দেখেছে বলে জানা গেছে। গুলির ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শামীমকে আটক করে নিয়ে যায়। শামীম মোক্তারপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। জনতা তাকে গাড়ি বহরে দেখে পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াপাড়া এলাকায় মাদকের বিস্তার ব্যাপকহারে দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে মাদক সেবীদের জন্য জনজীবন হুমকির মুখে পড়ে যায়। এই অবস্থায় স্থানীয় জনগন নোয়াপাড়ায় মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক মিছিলের আয়োজন করে। মিছিল শুরু হওয়ার পর বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট গাড়ির একটি বহর এলাকায় প্রবেশ করে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে।
এই বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, মাদক বিরোধী মিছিলে মাদকসেবীরা ৪ রাউন্ড গুলি করেছে। মাদক কারবারি রুহুল আমিন এটা করেছে বলে শুনেছি। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিজস্ব আত্বীয় স্বজন ও দলের কেউ কেউ জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, যে কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো: শরিফ উদ্দীন বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে ও একজন গ্রেপ্তার আছে। আমরা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখছি।

