আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বেস ক্যাম্পে ৭২ ঘণ্টা

Slider খেলা


বর্তমান ও সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে আবারও আলোচনায় কানসাস সিটি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের এই শহরটিতে। দুই দলের ম্যাচ কাভার করতেই কানসাসে আসা।

কানসাস বিমানবন্দরে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন শুভাকাঙ্ক্ষী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শামসাদ আব্দুল্লাহ (স্বচ্ছ)। বিমানবন্দর থেকে স্বচ্ছ’র বাসার দূরত্ব মিনিট ত্রিশেকের। সেই পথের অর্ধেকের বেশি মহাসড়ক আর দুই দিকে সবুজের সারি।

নিউইয়র্কের চেয়ে সময়ে এক ঘণ্টা পিছিয়ে কানসাস। কানসাসে নেমেই আর্জেন্টিনার প্রেস কনফারেন্স ধরার তাড়া ছিল। স্বচ্ছর বাসায় ব্যাগ রেখেই আবারও স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া। এখানেও সেই মহাসড়ক আর চার দিকে সবুজের সারি।

নিউইয়র্কের মতোই কানসাসে সূর্য ডোবে সন্ধ্যা সাড়ে আটটার পর। কানসাস নিউইয়র্ক-বোস্টনের মতো অতটা ব্যস্ত শহর নয়। মানুষের সংখ্যা যেমন কম দৈনন্দিন ব্যস্ততাও কম। রাস্তায় সিগন্যাল ও জ্যামও কম। নিরবতা যেন এ শহরটির আলাদা সৌন্দর্য।

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ কাভার করে বাসায় ফিরতে রাত দুটার বেশি বেজে যায়। পরের দিন রোববার ছুটি থাকায় কানসাস ও নিকটবর্তী শহর ঘোরার পরিকল্পনা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু রাকা ও রসি আইওয়া থেকে কানসাসের নিকটবর্তী এক পার্কে আসে দেখা করতে। ওদের উদ্দেশ্যে কানসাস থেকে স্বচ্ছর সঙ্গে আমার রওনা হওয়া। যাওয়া-আসা মিলিয়ে চার ঘণ্টা সফর পুরোটাই ছিল মহাসড়কের ওপর এবং প্রায় পুরোটাই ছিল সবুজে ঘেরা।

আর্জেন্টিনার অনুশীলন থাকায় তড়িঘড়ি আবারও কানসাস সিটিতে ফিরতে হয়েছে। কানসাস সিটির সুপার বোলের খুব সুনাম রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে কানসাসে খানিকটা উন্নয়নমূলক ও ফুটবলীয় রূপ দেওয়া হয়েছে। কানসাস বিমানবন্দরে নামার পরই ফুটবল বিশ্বকাপের নানা বোর্ড আগত যাত্রীকে স্বাগত জানায়। যা অনেক বিমানবন্দরে অনুপস্থিত।

কানসাসের আয়তন ও জনসংখ্যা কম তাই প্রবাসী স্বাভাবিকভাবেই নিউইয়র্ক ও অন্য বড় শহরের চেয়ে কম। এরপরও কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি করছেন। বাংলাদেশের কমিউনিটি ছোট হলেও একে অন্যের সাথে যোগাযোগ ও আন্তরিকতা অনেক। আমেরিকায় ক্রিকেট তেমন জনপ্রিয় ও প্রচলন না থাকলেও কানসাসে সামারে একটি সৌখিন পর্যায়ের ক্রিকেট লিগ হয়।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত সেই দলের অধিনায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও কানসাসে পিএইচডি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। কানসাসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অনেকেই বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখেছেন।

কানসাস সিটি বলতে গেলে আর্জেন্টাইনদের দখলে। রাতারাতি বদলে গেছে শহরটির চেহারা। ক্যাফে, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট—সবখানেই এখন শোভা পাচ্ছে আকাশী-নীল পতাকা। খেলা দেখতে আসা আর্জেন্টাইনদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও মজেছেন মেসি উন্মাদনায়। আর্জেন্টিনার বেস ক্যাম্পের অবস্থান মিশৌরী লেক ঘেষে। আর্জেন্টিনার হোটেলের সামনে মেসির বড় ছবি সাঁটানো। চারদিকে কাটাতারের বেড়া। ‘ভামোস আর্জেন্টিনা’ লেখা চার দিকের ব্যানারে। আর্জেন্টিনার আবহ পুরো প্রাঙ্গণে।

আর্জেন্টিনার পাশাপাশি তাদের সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বেস ক্যাম্পও কানসাসে। ইংল্যান্ডের বেস ক্যাম্পের আশেপাশে তাদের সমর্থকদের ভিড় তুলনামূলক কম।

১৫ জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। সেই ম্যাচ কাভারের জন্য কানসাস থেকে আটলান্টার উদ্দেশ্যে যাত্রা। চোখের পলকেই কানসাসে দিন তিনেক কেটে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *