সময়টা যেন নাজিফা তুষির। প্রেক্ষাগৃহে চলছে তার অভিনীত ‘রইদ’। মেজবাউর রহমান সুমনের ছবিটি ঘিরে চারদিকে প্রশংসা। এর মধ্যেই নতুন চমক নিয়ে হাজির তুষি। গতকাল রাতে প্রকাশ্যে এসেছে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ নির্মিত সিরিজ ‘অ্যানি’র ট্রেলার। সেটি দেখে মুগ্ধ দর্শক-সমালোচকরা। বিশেষ করে তুষির অভিনয়ের যে আভাস মিলল, তাতে নির্দ্বিধায় অনেকেই বলছেন, এ প্রজন্মের সেরা অভিনেত্রীদের একজন তিনি।
‘অ্যানি’ নিয়ে ঢাকা পোস্টকে বিস্তারিত বলেছেন তুষি। জানিয়েছেন আনন্দ ও বেদনার কথা। শুরুটা আনন্দ-উচ্ছ্বাসেই হোক। সিরিজটি নির্বাচিত হয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এ। জার্মানির এ উৎসবে আজই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিরিজের প্রিমিয়ার। তুষি বলেন, ‘সিরিজটি নিয়ে আমিও এক্সাইটেড। খুবই ভালো লাগছে, বাংলাদেশ থেকে প্রথম কোনো সিরিজ এই ফেস্টিভালে সিলেক্টেড হয়েছে। খুবই প্রেস্টিজিয়াস একটা ফেস্টিভ্যাল এটা। সিরিজটি আমার খুব প্রিয়। আমার জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য কাজ। এটা করতে পেরে নিজেরও খুব ভালো লাগছে। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ আমার প্রিয় ডিরেক্টর। আমি অনেক গ্ল্যাড এবং লাকি, তার সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি।’
‘অ্যানি’র ট্রেলারে দেখা গেছে সাদের চেনা নীল রঙের ছাপ। এর আগে যেমনটা দেখা গিয়েছিল ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এ। সেই নীলের হাত ধরে এবার তুষির মন খারাপে প্রবেশ করা যাক। ‘অ্যানি’র প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ, ওদিকে জার্মানির উৎসবে সিরিজের প্রিমিয়ার; অথচ তুষির মন খারাপ। কারণ? উৎসবটিতে টিমের কেউই যেতে পারেননি! বিষণ্ণ মনে তুষি বললেন, ‘এত ভালো একটা কাজ, আমার ব্যক্তিগত পছন্দের কাজ; আজকের দিনে উৎসবে বসে আমাদের একসঙ্গে সিরিজটা দেখার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জার্মানি যেতে পারিনি। কোনো দেশের একটা সিগনিফিকেন্ট কাজ হলে সেটা দেশের জন্য সম্মানের। ফেস্টিভ্যাল থেকেও অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের এখানকার যারা জার্মান এম্বাসির লোকজন, ভিসার ক্ষেত্রে তারা কোনো রকম সহায়তা করেনি। উৎসব কর্তৃপক্ষ খুব করে চেয়েছে, আমরা যেন সেখানে উপস্থিত হই। কেবল আমাদের এখানকার জটিলতার কারণে সম্ভব হয়নি। এজন্য আমার একটু মন খারাপ। খুব ভালো হতো যেতে পারলে। ওরকম বড় আয়োজনে সিরিজটা দেখে নতুন কিছুর অভিজ্ঞতাও পেতাম।’
মন খারাপের গল্প রেখে আনন্দের কাছে ফেরা যাক। তুষি এখন ব্যস্ততম সময় পার করছেন। একের পর এক প্রশংসিত কাজ উপহার দিচ্ছেন। নিজের এই স্বর্ণালী সময় নিয়ে অভিনেত্রীর মন্তব্য এমন, ‘ক্যারিয়ারের পিক টাইম বা অন টাইম এগুলো নিয়ে ভাবি না। আমি কাজের মানুষ, মাঝে অনেকগুলো কাজ করেছি। সেগুলো এখন হয়তো একসময়ে রিলিজ হচ্ছে, এজন্য সবাই আমার ডিফারেন্ট কাজগুলো একসঙ্গে দেখতে পাচ্ছে। এটা খুবই আনন্দের। দর্শক আমার কাজটা পছন্দ করছে, প্রতিটা কাজকে ভালোবাসছে, ভালো লাগা দিচ্ছে, এটা আমার কাছে অনেক আনন্দের। এজন্য সময়টা সুন্দর লাগছে।’
আমি শুধু আমার কাজ করে যেতে চাই এবং অ্যাজ আ মানুষ, জীবনে অনেক কিছু খুঁজে পাই কাজ দিয়েই। যদি মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারি, সেটাই আমার সার্থকতা।
জীবন ও কাজের সমীকরণ সহজভাবে দেখেন তুষি। তার ভাষ্য, ‘আমি শুধু আমার কাজ করে যেতে চাই এবং অ্যাজ আ মানুষ, জীবনে অনেক কিছু খুঁজে পাই কাজ দিয়েই। যদি মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারি, সেটাই আমার সার্থকতা। ক্যারিয়ার, পিক টাইম, অন টাইম বা এভাবে বুঝতেও চাই না আসলে। আমি চাই আমি সিম্পল থাকতে এবং যে কাজটা করতে ভালো লাগে, সেটা করতে, এটুকুই।’
‘অ্যানি’র ট্রেলারের দৃশ্য
‘অ্যানি’ সিরিজে নাজিফা তুষির সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান। সহ-অভিনেতা ও বন্ধু ইয়াশকে নিয়ে তুষি বলেন, “আমি এর আগে ইয়াশের সঙ্গে কিছু কাজ করছি, ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ করলাম। সে আমার বন্ধু, ওই জায়গা থেকে যে কোনো কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভালো হয়। অ্যাজ আ পারসন, ও খুব ভালো এবং ব্রিলিয়ান্ট।”
সিরিজে ইয়াশের ক্যারেক্টার লুক নিয়ে দর্শকদের চমকের আভাস দিয়ে তুষি বলেন, ‘ট্রেলার রিলিজ হওয়ার পর সবাই ইয়াশের লুক দেখেছে। আমি বলব—এই ইয়াশকে অডিয়েন্স কখনোই দেখেনি। নট অনলি ইয়াশ, আমি বলব সাইমন ভাই থেকে প্রতিটা ক্যারেক্টার এখানে ডিফারেন্ট এবং যারাই দেখবে, আই থিঙ্ক, তাদের ভালো লাগবে।’
আমি বলব—এই ইয়াশকে অডিয়েন্স কখনোই দেখেনি। নট অনলি ইয়াশ, আমি বলব সাইমন ভাই থেকে প্রতিটা ক্যারেক্টার এখানে ডিফারেন্ট এবং যারাই দেখবে, আই থিঙ্ক, তাদের ভালো লাগবে।
‘অ্যানি’র মুক্তি নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট খবর পাওয়া যায়নি। কবে, কোন প্ল্যাটফর্মে আসবে, জানাননি সংশ্লিষ্টরা। তুষিও কেবল এটুকু বললেন, ‘দেশের দর্শক সিরিজটা দেখতে পারলেই আমি সবচেয়ে আনন্দিত হবো।’

