কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এই ঘটনার কারণে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর রেলওয়ে স্টেশন ও মহানগর গৌধুলী ট্রেনটি আশুগঞ্জ মেঘনা রেলওয়ে সেতুতে আটকা পড়ে আছে। ট্রেনটিতে থাকা শত শত যাত্রী চরম বিপাকে পড়েছেন। সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি ফ্লাইট ধরতে যাওয়া বিদেশগামী অনেক যাত্রীও বর্তমানে উৎকণ্ঠা ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৯ টা থেকে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখে। ফলে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে ছেড়ে গিয়ে তালশহর স্টেশনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ট্রেনটি দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। বেশি বিপদে পড়েছেন কাতার, দুবাই, ওমানসহ বিভিন্ন দেশের উড়োজাহাজ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীরা। নির্দিষ্ট সময়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারলে ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা।
স্টেশনে আটকে থাকা কাতার গামী যাত্রী সেহাগ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছানো জরুরি। ভৈরবের ঝামেলার কারণে এখানে ট্রেন আটকে আছে। ফ্লাইট মিস হলে আমাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে যাবে, আবার নতুন করে টিকিট কাটার সামর্থ্যও সবার নেই। আমরা দ্রুত এই পরিস্থিতির সমাধান চাই।
দুবাই গামী শাহজাহান আলী বলেন, ভৈরবের মানুষের মধ্যে কোন ধরণের হিতাহিতজ্ঞান নেই। এ কারণে তারা স্টেশনের মধ্যে এভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। আমাদের সঠিক সময়ে বিমানবন্দরে না যেতে পারলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ মো. শাকির জানান, ভৈরবে রেললাইনের আশপাশের পরিস্থিতির কারণে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছে। লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই ট্রেনটি আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এবং আটকে থাকা ট্রেনটি দ্রুত গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।

