খুলনায় একই ঘরের ট্রাংক-খাট-ওয়ারড্রব থেকে নানি ও দুই না‌তির মরদেহ উদ্ধার

Slider ফুলজান বিবির বাংলা

খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানি ও দুই না‌তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পু‌লিশ। শ‌নিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহানগরীর সোনডাঙ্গা থানার দারুস আমান মস‌জিদ এলাকার বিলপাড় রোডের বা‌সিন্দা শরীফুল ইসলামের বা‌ড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশু দুইটির মা ফাতেমা বেগম মেরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পু‌লিশ। পু‌লিশের পাশাপা‌শি র‌্যাব ও সিআইডির টিম ঘটনাস্থল প‌রিদর্শন করেছে।

নিহতরা হলেন, বেবী বেগম এবং তার দুই না‌তি মোস্তাকীম ও শামীম।

নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগম মেরী জানান, তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী রফিকুল তার আগের ঘরের সন্তানদের ভালো চোখে দেখতো না। গত শুক্রবার রাতে তিনি বাড়িতে আসেন এবং তার সাথেই থাকেন। সকালে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যান। এরপর তার মা ও দুই সন্তানকে না দেখে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। বিকেলে পাশের রুম থেকে গন্ধ আসলে সবাইকে জানান।

পু‌লিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মেরীর খালা তার বোন বেবী বেগমকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে আসেন। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে জাতীয় জরু‌রি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। এর আগে স্থ‌ানীয়রা ঘরের দরজা ভেঙে চৌ‌কির (খাট) নীচ‌ থেকে নানি বেবী বেগম ও ট্রাংকের ওপর থেকে নাতি শামীমের মরদেহ দেখতে পান। পরে পু‌লিশ ছোট ছেলে মুস্তা‌কিমের মরদেহ খুঁজতে থাকেন। পরে সিআইডির টিম এসে ওয়ারড্রব থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিআিইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্রাইম সিন থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ তিনজনের সুরতাহাল শেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, চার বছর পূর্বে ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর (৪৫) সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর তাদের সন্তান শামীম এবং মুস্তাকিম তার মা ফাতেমা বেগমের সাথে বসবাস করতে থাকেন। এর ভিতরে আন্তঃজেলা ট্রাক ড্রাইভার রফিকুলের সাথে বিয়ে হলে সেও প্রায় ফাতেমা বেগম এর মায়ের বাসায় এসে থাকতেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার দারুল আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় তিনটি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি শিশু মুস্তাকিম ও শামিম এবং তাদের নানী বেবী বেগমের মরদেহ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশু সন্তান দুটির মা ফাতেমা বেগম মেরীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্যমতে, তার দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল এই ঘটনার সাথে জড়িত। এ ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। রফিকুল খুলনা নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *