
চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা কেবল ইরানের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের জ্যেষ্ঠ এক রাজনৈতিক-নিরাপত্তা কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করার সুযোগ দেবে না ইরান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যখন মনে করবে এবং তার নিজস্ব শর্তগুলো যখন পূরণ হবে, তখনই এই যুদ্ধ শেষ হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শত্রুর ওপর ‘চরম আঘাত’ হেনে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের দৃষ্টিতে এসব প্রস্তাব ‘অযৌক্তিক’ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার পরাজয়ের বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা মাত্র। ২০২৫ সালের বসন্ত ও শীতকালে অনুষ্ঠিত দুই দফার আলোচনার কথা জানিয়ে সেগুলোকে মার্কিন ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
তিনি বলেন, সে সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার কোনও সদিচ্ছা ছিল না এবং পরবর্তীতে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছিল তারা।
একটি বন্ধুপ্রতীম আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আসা বুধবারের এই প্রস্তাবকে ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি কৌশল হিসেবে দেখছে এবং এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
• যুদ্ধ অবসানে ইরানের পাঁচ শর্ত
• শত্রুপক্ষকে ‘আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা’ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
• ইসলমি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যাতে পুনরায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
• যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
• অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং লড়াইয়ে যুক্ত থাকা সব প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
• হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের চর্চাকে স্বাভাবিক ও আইনি অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে; যা অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি পালনের নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা শুরুর কয়েক দিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় দেওয়া তেহরানের সব দাবির সঙ্গে এসব শর্ত যুক্ত হবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া হলেই কেবল যুদ্ধবিরতি সম্ভব বলে ইরান সব মধ্যস্থতাকারীকে জানিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে কোনও আলোচনা হবে না। ইরান যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। ট্রাম্প যখন চাইবেন তখন নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই উসকানিমূলক ও অবৈধ যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রায় ৮০ দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি।
