যানজট, মানুষের ভিড় আর ব্যস্ততায় সর্বদা মুখর থাকা ঢাকা শহরে আজ কোনো কোলাহল নেই। চারদিকে নীরবতা। পথঘাট ফাঁকা। মূল সড়কে চলাচল করা বাসের সংখ্যা কম। রিকশাও তেমন বেশি নেই। সড়কে মানুষের দেখাও মিলছে হাতেগোনো।
শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, বাড্ডা, মালিবাগ, কমলাপুর ও মুগদার প্রধান সড়ক ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে নগরবাসীর বড় একটি অংশ গ্রামে ছুটে গেছেন। ফলে জনশূন্য হয়ে পড়েছে সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলো। কর্মব্যস্ত নগরীতে সেই চিরচেনা কোলাহল নেই; নেই যানজট, মানুষের ভিড়।
হাতেগোনা কিছু মানুষ ঈদের নতুন পোশাক পরে এদিক-ওদিক হাঁটাহাটি করছেন। সড়কে কিছু প্রাইভেটকার চলতে দেখা গেছে। বাসের সংখ্যা কম, কিছু বাস দেখা গেলেও সেগুলো যাত্রীশূন্য। তবে রিকশা ও সিএনজি বেশকিছু আছে সড়কে। অবশ্য তাও অন্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। এ দুই পরিবহনের চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
যাত্রীরা বলছেন, স্বল্প দূরত্বেও রিকশা-সিএনজি চালকরা আগের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া নিচ্ছেন। চালকদের ভাষ্য, ঈদের দিন বলে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা।
বাসাবো এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সায়মুন হক বলেন, কী একটা শান্তি। মানুষের ভিড় নেই। রাস্তায় যানজট নেই। এই রকম ঢাকা যদি সবসময় থাকত, কী যে ভালো লাগত।
কবির হোসেন নামের আরেকজন বলেন, উত্তরা থেকে বাসে করে মুগদা আসতে লেগেছে মাত্র ৩০ মিনিট। বাসে যাত্রী ছিল না, জায়গায় জায়গায় বাস দাঁড়ানোর পরও এত কম সময় লেগেছে।
মুগদা বিশ্বরোডে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা রাইদা পরিবহনের চালক মো. ইদ্রিস বলেন, যাত্রী নেই মামা। যে তেল পোড়ামু ওইটা উঠবে বলে মনে হয় না। যাত্রীদের কাছে কয়েকটা টাকা বেশি চাইলে যায় খেপে।
মতিঝিল এলাকায় ভাড়া বেশি চাওয়ায় সিএনজি চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় এক যাত্রীর। মো. হিরন নামের ওই যাত্রী বলেন, ঈদের দিন ভাড়া একটু বেশি নিতেই পারে। কিন্তু ওরা তো দুই থেকে তিনগুণ ভাড়া চাইছে। আগে যেখানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিযে যেতাম সেখানে দাবি করছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। কেমন লাগে বলেন। বেশ কয়টা সিএনজি দেখলাম, সবার একই অবস্থা। এখন তো রাস্তায় জ্যাম নাই, ভাড়া তো আগের চেয়ে কম নেওয়ার কথা।
ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সিএনজি চালক সোহেল বলেন, রাস্তাঘাটে মানুষ নাই। আমাদের তো জমার টাকাটা তুলতে হবে। ঈদে দেশে যাই নাই, কয়টা পয়সা কামানোর লাইগা। কয়টা বেশি টাকা চাইলে যাত্রীরা চ্যাত কইরা উঠে।

