উত্তাল সময়ে সাংবাদিক নির্যাতন হয়রানী ও খুনের প্রতিবাদে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যােলয়ের সামনে রাজবাড়ি সড়ক অবরোধ করে এই সাংবাদিকেরা। এই কঠিন সময়ে বর্তমান জাতীয়তাবাদী আওয়ামীলীগের সাংবাদিকরা আওয়ামীলীগের ক্লাবে বসে মুচকি হেসেছে— ছবি সংগ্রীহিত
গাজীপুর: ৫ আগস্টের পর দালাল ও সবিধাভোগীদের আশ্রয় দিয়ে বিএনপির ত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কতিপয় বিএনপি নেতা নৈতিক ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের নিয়ে কতিপয় বিএনপি নেতার নগ্নরাজনীতি বিএনপির ইতিহাস ও ঐত্যের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আওয়ামীলীগের সাথে মিশে থাকা এই সকল বিএনপি নেতা প্রতিদান হিসেবে আওয়ামীলীগের কতিপয় লোককে ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে পুনর্বাসন করতে পদও দিয়েছেন বলে যথেষ্ট তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে। তাই এই সকল নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন প্ল্যাটফর্ম জাতীয়তাবাদী আওয়ামীলীগ গঠনের অভিযোগও আছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত সময়ে সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানীর প্রতিবাদে রাজপথে অনুষ্ঠিত কোন কর্মসূচিতে যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং যারা আওয়ামীলীগের প্রথম শ্রেনীর সুবিধাভোগী ছিলেন তাদেরকে নিয়ে বিএনপির কতিপয় নেতা ৫ আগেষ্টর পর পুনর্বাসনের নামে বিএনপির সাংবাদিকের তকমা দিয়েছেন। কৌশলে এদেরকে বিএনপিতে পুনর্বাসন করে সাংবাদিকদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন। মূলত গাজীপুরে কোন বিএনপির সাংবাদিক নেই। আওয়ামীলীগেরও দলীয় পদপদবী ওয়ালা সাংবাদিক কম। এখন যারা বিএনপির সাংবাদিক হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ও বিএনপির ক্ষমতাশালী নেতাদের প্রথম শ্রেনীর হাতিয়ার হিসেবে সক্রিয়, তাদের কেউই আওয়ামীলীগের সময় বিএনপির পক্ষে ছিলেন না। এরা আওয়ামীলীগের সময় আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রনাধীন সাংবাদিক সংগঠনের বড় বড় পদে ছিলেন আওয়ামীলীগের পুরো সময়ে। এরা অসংখ্য সাংবাদিকদের বহিস্কার করে মামলা মোকদ্দমায় জেলে ঢুকিয়েছেন। এদের ইন্দনে অসংখ্য সাংবাদিক রক্তাক্ত জখম হয়ে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
সাংবাদিকদের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশের প্রস্রাব খাওয়ানোর ইন্দনদাতা এই সাংবাদিকচক্র। আর এদের নিয়েই কতিপয় বিএনপির নেতা বিএনপির সাংবাদিকদের তকমা দিচ্ছেন যা বিএনপির নীতি আদর্শ ত্যাগ ও সংগ্রামের পরিপন্থী। এসব যারা করছেন তাদের অনেকেই আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন না।
এদিকে রাজনৈতিক আশ্র্রয় প্রশ্রয় দিয়ে কতিপয় বিএনপি নেতা ৫ আগষ্টের পর অসংখ্য আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নামধারী অংগ ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে বিএনপিতে পদ দিয়েছেন বলে পর্য়াপ্ত তথ্যপ্রমান রয়েছে। বিএনপির কথিত সহযোগী সংগঠনের পদ পাওয়া এসব নেতা এখন আওয়ামী-বিএনপির নেতা। এসকল কাজ যেসকল নেতা করেছেন তাদেরকে অনেককেই আওয়ামী-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাও বলছেন। বিএনপি নেতাদের ছবি দিয়ে গাজীপুর শহর সহ পুরো জেলায় অসংখ্য বিলবোর্ড, পোস্টার ও ব্যানার ঝুলছে, যেসকল পোস্টারে আওয়ামী-বিএনপির নেতারা শুভেচ্ছা দিয়েছেন। গাজীপুর মহানগর, জেলা ও উপজেলাগুলোতে কতিপয় বিএনপি নেতা এই নতুন দলের জন্ম দিয়েছেন যা বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। যারা আওয়ামীলীগের মিটিং মিছিল ও সমাবেশে সক্রিয় ও প্রথম কাতারে ছিলেন তাদেরকেউ পদ দিয়েছেন বিএনপিতে এমন অভিযোগ অসংখ্য। এমনও আছে, হাইব্রিড নেতার এক বা একাধীক পদ বিএনপিতে অথচ ত্যাগীদের সদস্য পদও নেই। এই নতুন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে কতিপয় বিএনপি নেতা ঝুট ব্যবসা, চাঁদাবাজী, জমিদখল সহ অনৈতিক কাজ করাচ্ছেন, যার দায় বিএনপির উপর পড়ছে। এই সকল ডুয়েল নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারাও।

