মুষলধারে বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের সড়কে আরও বাড়ছে যানজট

Slider কৃষি, পরিবেশ ও প্রকৃতি


নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষ দিনভর স্বস্তির যাত্রা করলেও গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে তীব্র যানজট, ভাড়া নৈরাজ্য ও বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলের পথে দেখা দিয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কে চাকা ঘুরছেনা যানবাহনের। এদিকে রাত ১০ টা থেকে ফের শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। এতে ধীরে ধীরে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরের সড়কে টাঙ্গাইল পর্যন্ত যানবাহণের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাজার হাজার ঘরমুখী মানুষ বৃষ্টিতে ভিজেই যানবাহণের অপেক্ষায় অবস্থান করছেন। অনেকেই দুরপাল্লার বাস না পেয়ে পলিথিন মাথায় দিয়ে খোলা ট্রাক, পিকাপে উঠে পড়ছেন। চরম দুর্ভোগ নিয়ে ঘরমুখী মানুষের চোখে মুখে তবুও উচ্ছ্বাস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুরের চন্দ্রা বাস টার্মিনালে উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার যানবাহন জটলা বেধে আছে। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে যাত্রীরা ঠিক মতো যানবাহনে উঠতে পারছেন না। এছাড়াও যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সড়কে তৎপর থাকার নির্দেশনা থাকলেও তাদের কার্যক্রম নেই। এতে সড়কের উপর যানবাহণগুলো হরহামেশাই দাঁড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে চন্দ্রা থেকে নবীনগর সড়কের জিরানী ও গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগেই থাকছে।

গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাউগাতুল আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, চেষ্টার কমতি নেই। বৃষ্টির মধ্যেও আমাদের পুলিশ সদস্যরা রেইনকোট পড়ে ছাতা নিয়ে সড়কে নজরদারি করছে।

অন্যদিকে, রাত ১০ টার বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে যান চলাচলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। চন্দ্রা বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া পরিবহনগুলো নির্দিষ্ট গতির চাইতেও কম গতিতে উত্তরাঞ্চলের দিকে ছুটছে। এতে ধীরে ধীরে টাঙ্গাইল শহর পর্যন্ত যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা স্টেশন পর থেকে সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। ওই স্থানে যানবাহন এক লেনে চলাচল করতে হয়। এছাড়াও সড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়াতে বৃষ্টি হলে চরম যানজট সৃষ্টি হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে জেলার মির্জাপুর, পাকুল্লা, টাঙ্গাইল সড়কটিতেও যানজট সৃষ্টি সম্ভাবনা রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা মোঃ হারুন বলেন, আমরা সড়কের যে স্থানগুলোতে যানজট সৃষ্টি হয় সেখানে কয়েকজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে রেখেছি। এখানে যানবাহন থামার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে যানবাহনের চাপ খুব বেশি থাকলে যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় চাপ পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *