ছবি: শীতলক্ষ্যা নদীর গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার জামালপুর শ্রমিক ঘাট
গাজীপুর: নদীর সীমানা চিহ্নিত করে পিলার থাকলেও মানছে না কেউ। সীমানা পিলারের ভেতরে দখল করে গড়ে তোলেছে বিশাল সবজির বাগান, ইটের ভাটা, বাসা বাড়ি দোকানপাট। দিন যত যাচ্ছে তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মান হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার( ১৯ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিন শীতলক্ষ্যা নদীর গাজীপুরের কালিগঞ্জের নারগানা জামালপুর সহ বেশ কিছু জায়গায় গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদী দখলের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার জামালপুর বাজার সংলগ্ন শ্রমিক ঘাটের উত্তর পাশে প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে ইটের ভাটা,জামালপুর বাজারে, বসতবাড়ি, দোকান ও বহুতল ভবন নির্মাণ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষিজমি ও বসতভিটা ক্ষতির মুখে পড়ছে, হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, আগে এই অংশে নদীপথ প্রশস্ত ছিল এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এখন দখল ও ভরাটের কারণে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে, শ্রমিক ঘাটের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়ে। তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান, নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলছেন, প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের কারণে আগে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। তবে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শীতলক্ষ্যা নদীর এই অংশ আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।
সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদী রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কালিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, আমি এসেছি ৫ মাস হল, এর মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান হয়নি। আগে হয়ে থাকতে পারে।

