টঙ্গীতে বিএনপি নেতাদের ৪০ কেন্দ্রে শাপলা কলির জয় নিয়ে নানা প্রশ্ন

Slider বাংলার মুখোমুখি


গাজীপুর: ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ ( সদর- টঙ্গী) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এম মনজুরুল করিম রনি। সদর ও টঙ্গী নিয়ে গঠিত এই আসনে টঙ্গীর ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ ১০১ কেন্দ্রে ও শাপলা কলি ৪০ কেন্দ্রে বিজয়ী হয়। শাপলা কলির বিজয়ী কেন্দ্রগুলো হেভিওয়েট বিএনপি নেতাদের এলাকা হওয়ায় নানা সমীকরণ করছে বিএনপি।

ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, গাজীপুর-২ ( সদর -টঙ্গী) আসনের ২৭২ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩। এর মধ্যে টঙ্গীতে ১৪১ কেন্দ্রে ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৯। টঙ্গীতে ধানের শীষ প্রতীক ১০১ কেন্দ্রে ও শাপলা কলি ৪০ কেন্দ্রে বিজয়ী হয়। টঙ্গীতে ধানের শীষ পেয়েছে ৭৬ হাজার ৩৮৫ ভোট ও শাপলা কলি পেয়েছে ৬৪ হাজার ২০৮ ভোট। টঙ্গীতে ১২ হাজার ১৭৭ ভোট বেশী পায় ধানের শীষ। ধানের শীষ ও শাপলা কলি টঙ্গীতে ৩৭.৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, টঙ্গীর স্থায়ী বাসিন্দা ও বিএনপির প্রভাবশালী হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ন্ত্রিত অনেক কেন্দ্রে শাপলা কলি বিজয়ী হয়। উদাহরণ সরুপ টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজের পুরুষ ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ৪৮২ ভোট ও শাপলা কলি ৯৫১ ভোট। এই প্রতিষ্ঠানের মহিলা কেন্দ্রে ধানের শীষ ৪৪৬ ও কলি ৪৫৯ ভোট পায়। টঙ্গী সরকারী কলেজের মহিলা কেন্দ্রে ধানের শীষ ৪১৮ ও শাপলা কলি ৫৬৩ ভোট পেয়েছে। খাঁ-পাড়া বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে ধান ৪৫২ ও শাপলা কলি ৫১৭ ভোট পায়। ব্লুসম পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে শাপলা কলি ৬৮৪ ও ধানের শীষ ৩১০ ভোট পায়। টঙ্গী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড গার্লস কলেজ কেন্দ্রে ধানের শীষ ৩৮৩ ও শাপলা কলি ৫০৩ ভোট পেয়েছে। টঙ্গীর এরশাদ নগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ টি কেন্দ্রে ধানের শীষ ৬১৪৪ ও শাপলা কলি ৬২০৫ ভোট পায়। এই ওয়ার্ডে শাপলা কলি ৬১ ভোটে ধানকে পরাজিত করে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, টঙ্গীতে যে ৪০ কেন্দ্রে শাপলা কলি ধানের শীষকে পরাজিত করেছে, সে কেন্দ্র গুলো হেভিওয়েট বিএনপি নেতাদের নিজেদের কেন্দ্র। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষনার পর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মনজুরুল করিম রনির বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ে সালাউদ্দিন সরকার ধানের শীষের প্রার্থী রনিকে সমর্থন করে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপর থেকে তিনি রনির সাথে প্রচার প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

সূত্র জানায়, শেষ সময়ে টঙ্গী বিএনপি এক জোট হওয়ার সংবাদ ঘরে ঘরে না পৌছানোর কারণে সাধারণ ভোটাররা দ্বিধাদ্বন্ধে পড়ে যায়। এই মুহুর্তে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী প্রচারণায় এগিয়ে গেলে ভোট শাপলা কলিতে চলে যায়। আবার অনেকে বলছেন, আওয়ামীলীগের নিরীহ সমর্থকেরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের আগে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীর সাথে টঙ্গীর একজন সিনিয়র বিএনপি নেতার ছবি নির্বাচনের পর ভাইরাল হয়। এটাকেও অনেকে ৪০ কেন্দ্রে ধানের শীষের পরাজয়কে দায়ী করছেন। একই সঙ্গে শেষ গণমিছিলের দিন বেলুন বিস্ফোরণে ১৯ জন ও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সৃষ্ট মারামারিতে ১০ জন আহতের ঘটনাকেও দায়ী করছেন।

অনেকে বলছেন, সরকার পরিবার অধ্যুষিত টঙ্গী বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে শেষ সময়ে যারা ধানের শীষে মিলেছেন তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি থেকেই এমন ফলাফল হতে পারে।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন বলেন, এই ব্যার্থতার বিষয়টি বিশ্লেষণের জন্য আমাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকদের উপর ছেড়ে দিলাম। আমাদের কারো অবহেলায় দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকলে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার।

টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহবায়ক প্রভাসক বসির উদ্দিন কালের বলেন, জনগন ভোট দিয়েছেন। যেসব কেন্দ্রে কৃতকার্য হতে পারিনি, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *