
গাজীপুর: বাংলাদেশের বয়স ৫৫ বছর। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান, সদ্য বিদায়ী স্বৈরাচারী সরকার হঠাও আন্দোলন সহ নানা আন্দোলন সংগ্রামে কালিগঞ্জের মানুষ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। হতাহতও হয়েছেন। কিন্তু তাদের অবদানের স্বীকৃতি পাননি কখনো। আওয়ামীলীগ সরকার একাধিকবার কালিগঞ্জে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য দিলেও বিএনপি থেকে কেউ মন্ত্রী পরিষদে স্থান পায়নি। এবার কালীগঞ্জকে কলংক মুক্ত করতে মন্ত্রীত্ব দাবী করছেন কালিগঞ্জের মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর থেকে শুধু কালিগঞ্জে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ কে এম ফজলুল হক মিলন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে গাজীপুর থেকে বিএনপির কেউ সংসদ সদস্য হতে পারেনি। ২০১৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন ফজলুল হক মিলন। এসময় নির্বাচনী প্রচারণায় মিলনের স্ত্রী শম্পা হক সন্ত্রাসী হামলায় মোট চারবার আহত হন। হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে ১১ বার কারাভোগ করেন ফজলুল হক মিলন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মা মারা যান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় মিলন দম্পতি তাদের নির্যাতন নিপীড়নের ইতিহাস বর্ণনা করে মঞ্চে কেঁদেছেনও। ৯ ফেব্রুয়ারী কালিগঞ্জে শেষ নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড আসাদুজ্জামান রিপন ধানের শীষ বিজয়ী হলে মিলনকে মন্ত্রী পরিষদে নেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।
কালিগঞ্জের মানুষের দাবী, ইতিহাস ও সংগ্রামে কালিগঞ্জের মানুষ আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে। আওয়ামীলীগ একাধিকবার মন্ত্রী পরিষদে কালিগঞ্জের সাংসদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা দাবী করছি, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৯০ এর রাজপথ কাঁপানো নেতা ও হাসিনা হঠাও আন্দোলনে নির্যাতিত নেতা ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রী পরিষদে স্থান দিয়ে কালিগঞ্জকে কলংকমুক্ত করবেন।
গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর এডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, আমি গাজীপুর-৫ আসনের বাসিন্দা। এই আসনে বিএনপির কেউ কোন দিন মন্ত্রী হয়নি। এবার মিলন ভাইকে মন্ত্রী বানিয়ে বিএনপি কালিগঞ্জের ঋন পরিশোধ করবেন বলে আশা রাখি।
গাজীপুরের বাসিন্দা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ মাজহারুল আলম বলেন, কালিগঞ্জে এবার মন্ত্রী হিসেবে ফজলুল হক মিলনকে নেয়া উচিত। কালিগঞ্জে কোন দিন বিএনপির কোন সাংসদ মন্ত্রী পরিষদে জায়গা পায়নি এটা কষ্টকর ঘটনা। আমি আশা করি চেয়ারম্যান এটা বিবেচনা করবেন।
