
গাজীপুর: আজ মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেন, গাজীপুর হারতে জানেনা, জিততে জানে। গাজীপুর আগামীতেও জিতবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে, সামাজিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মামলা বাজের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এর আগে বারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পরে ৫৪ বছরে দেশ ও জাতির কোন উন্নয়ন হয়নি এ কথা বলবো না। উন্নয়ন হয়েছে দুই ধরনের একটা জনগণের, আরেকটা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের। জনগণের উন্নয়ন করতে গিয়ে রড এর বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। সিমেন্টের বদলে ছাই ব্যবহার করা হয়েছে। জনগণের উন্নয়ন করতে গিয়ে বিদেশে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে প্রচার করা হয়েছে। দেশে মাটির নিচে কত টাকা আছে তা আমরা জানিনা। ৫৪ বছরে বহু দলের নেতারা দেশ পরিচালনা করেছেন। তারা যখন ক্ষমতায় বসেছেন তখন যে সম্পদের মালিক ছিলেন, পরবর্তী সময়ে ৭০০/
৮০০ গুণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, গাজীপুর একটি শিল্প এলাকা। পুরো গাজীপুর শিল্প এলাকায় পরিণত হয়েছে। সমস্যা এখানে সীমাহীন, শিল্প যেখানে থাকবে, পরিকল্পনাও সেখানে থাকবে। সেখানে শৃঙ্খলা থাকবে, উন্নয়ন থাকবে, নিরাপত্তা থাকবে। এই শিল্প এলাকায় ৪০ লক্ষ কর্মচারী কর্মকর্তা কাজ করেন। তাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই, শৃংখলা নেই। তাদের স্বাস্থ্যসেবার পাওয়ার অধিকারও নেই। আমরা বিজয়ী হলে, তাদের অধিকার পূরণ করা হবে। এই এলাকাকে শিল্পের মতো করে সাজানো হবে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিক যারা, আমি হঠাৎ করে মাঝে মাঝে চলে আসি শ্রমিকদের অবস্থা দেখার জন্য। তাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। সকল মালিকের দৃষ্টিভঙ্গি সমান নয়। অনেকের সম্মানের সাথে শ্রমিকদের রেখেছেন। তবে বেশিরভাগ শ্রমিকদের সম্মান দেওয়া হয় না। বিশেষ করে মায়েদের সম্মান দেওয়া হয় না। তাদের সেখানে বেতন বৈষম্য রয়েছে। পুরুষের এক ধরনের মহিলাদের আরেক ধরনের। কাজ কিন্তু সমান। বৈষম্য সমান করে ফেলব। মায়েদের গর্ভকালীন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। মায়েরা দৈনিক পাঁচ ঘন্টা কাজ করবেন। বাকি তিন ঘন্টা বাচ্চাকে সময় দিবেন। কিন্তু সরকার বেতন দিবে আট ঘণ্টার। এটা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব দিতে হবে। একটা সুস্থ মা, একটা সুস্থ শিশু আগামী দিনের সমাজ। অনেক মা সন্তানকে দেখতে গিয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। আমরা চাই মায়েরা চাকরিও করবেন, সন্তানকেও দেখবেন। আমরা শিল্প এলাকায় ডে কেয়ার সেন্টার চালু করে দিব। আমি যখন এসব কথা বললাম একটা দল হায় হায় শুরু করেছে। তারা বলছে, মহিলাদের সবার চাকরি শেষ, নারীদেরকে আমির ঘরে ঢুকেই রাখতে চায়। মায়েরদের সম্মান করা আমাদের উদ্দেশ্য। পোশাক শ্রমিকের সন্তানেরা ভালো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হন। আমরা কথা দিচ্ছি, পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি, রাজার ছেলে রাজা হবে এমন রাজনীতি পাল্টে দিব। একটা শ্রমিকের সন্তানের মেধা বিকাশের দায়িত্ব নিবে সরকার। আমরা চাই তাদের ঘর থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসুক। আমরা সেই রাজনীতির ধারা চালু করতে চাই।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন করেছে, আমাদের সন্তানেরা কৃষকেরা, শ্রমিকেরা, ব্যবসায়ীরা, বোনেরা আমাদের মেয়েরা, ছেলেরা সবাই আন্দোলন করেছে। একটাই দাবি উই ওয়ান্ট জাস্টিস। সমাজে যখন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে তখন মানুষ তার অধিকার পেয়ে যাবে।
তিনি বলেন, গাজীপুর গনবসতি পূর্ণ একটি শিল্প এলাকা। এই এলাকার ড্রেনেজ সিস্টেম, গ্যাস সাপ্লাই, সহ সবকিছুতে সমস্যা রয়েছে। অথচ এই জিডিপিতে গাজীপুরের অবদান বিশাল।যার যেমন অবদান তাকে সেভাবেই মূল্যায়ন করতে হবে। আমাদের মানুষগুলো সেদিন মিছিল করে চাঁদা, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেনি, বেকার ভাতার কথা বলেনি। বলেছে আমার হাতে কাজ দাও। আমি কাজ করে সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই। আমরা কারো হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করব না। আমরা সুশিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর বানাবো। যুব সমাজ দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, একদল পেছনে দৌড়াতে চায়। আমরা পেছনে দৌড়াবোনা। সামনে যাবো। একদল আছে এখন মায়েদের গায়ে হাত দেয়। এটা কেমন প্রজাতি। সাবধান করে দিচ্ছি, মায়ের গায়ে হাত দিবেননা। এসব বলেছি বলে,
আমার পেছনে লেগে গেছে। আমি কাউকে ভয় পাই না আমি আল্লাহকে ভয় পাই।
তিনি বলেন, গাজীপুরের কিছু ন্যায্য দাবি আছে, কথা দিচ্ছি, বিজয়ী হলে, গাজীপুরের প্রতি দাবী পূরণ করা হবে। বলবেন এত টাকা কোথায় পাবেন, টাকা আছে। দেশের চোরেরা বিদেশে টাকা পাচার করেছে। আমরা ওই টাকা ফিরিয়ে আনব। সেই টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হবে। সেই টাকা এনে নিজেদের ভাগ্য বদলের উন্নয়ন করবো না, ১৮ কোটি মানুষের কাজে উন্নয়ন করব। এই উন্নয়নের অংশ হবে কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষ। উন্নয়নের কারিগর হবে আমাদের যুব সমাজ। একই সাথে কাজ করবে আমার মায়েরা, একই সাথে কাজ করবে আমার ভাইয়েরা। মেয়েদের জন্য নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করব।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের অঙ্গীকার দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। আরেকটা দলের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, তারাও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বেন। ভালো কথা নিজের ঘর ঠিক করুন। ৪৯ জন ঋন খেলাপি নিয়ে নির্বাচন করছেন। আগে তাদেরকে বাতিল ঘোষণা করুন। যদি তা করতে পারেন, জনগণ কিছুটা বিশ্বাস করবে। আর যদি ঋণ খেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করেন, আর বলেন আমরা দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়বো, তাহলে এমন হবে, আপনারা যা বলেন তা করেন না। যা করেন তা বলেন না।
গাজীপুর মহানগরী জামায়াতে ইসলামী সভাপতি অধ্যাপক মুহ জামাল উদ্দিন এর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
