২০ হাজার ডলারের কম রেমিট্যান্সেও ঘোষণা গ্রহণ

Slider অর্থ ও বাণিজ্য


কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই বিদেশ থেকে একবারে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার সুযোগ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু নির্ধারিত এই সীমার মধ্যেও রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের এই সময়ে ব্যাংকগুলোর এই ধরনের কর্মকা- নিয়ে বিরক্ত আর্থিক খাতের অভিভাবক কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অবস্থায় সর্বশেষ ব্যাংকার্স সভায় এ ধরনের কর্মকা- থেকে ব্যাংকগুলোকে বিরত থাকতে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়া অন্যদের দেশে অর্থ পাঠাতে ও সেবা খাতের রপ্তানি আয় আনার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক

ঘোষণা দিতে ফরম ‘সি’ পূরণ করতে হয়। এটা মূলত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের কাগুজে ঘোষণাপত্র। এতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের উদ্দেশ্য, প্রেরক ও দেশে সুবিধাভোগীদের তথ্য উল্লেখ করতে হয়।

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় লেনদেন নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী, অ্যান্টি মানি লন্ডারিং এবং কমবেটিং ফাইন্যান্সিং অব টেরোরিজমের (এএমএল-সিএফটি) শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে যে কোনো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করতে পারে। একই নীতিমালায় ১০ হাজারের অধিক ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স দেশে আনার ক্ষেত্রে বেনিফিসিয়ারি কর্তৃক ফরম ‘সি’ তে ঘোষণা দেওয়ার আবশ্যকতার কথা উল্লেখ আছে। তবে পরবর্তী সময়ে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স ব্যবস্থা আরও সহজীকরণ ও উদারীকরণের লক্ষ্যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা সার্কুলারের মাধ্যমে ফরম ‘সি’ তে ঘোষণা প্রদানের বাধ্যবাধকতা ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়। মূলত দেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু সম্প্রতি কিছু কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে সীমার মধ্যে এই রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের হয়রানি করাসহ বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে গত বুধবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকরা এ বিষয়ে বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন। ২০ হাজারের কম প্রত্যাবাসিত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক অপ্রয়োজনীয় দলিলাদি ও ফরম ‘সি’-এর ঘোষণা গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের ওপর প্রযোজ্য কর কর্তনের লক্ষ্যে সঠিক সার্ভিস কোড নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংগ্রহের আবশ্যকতা থাকলেও ২০ হাজারের কম প্রত্যাবাসিত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ফরম ‘সি’-এর ঘোষণা গ্রহণ করা হলে গ্রাহক হয়রানির সৃষ্টি হতে পারে। তাই আগামীতে এ ধরনের কর্মকা- বন্ধে ব্যাংকার্স সভায় ৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এগুলো হলো- ফরম ‘সি’-এর ঘোষণা ছাড়াই সীমার মধ্যে রেমিট্যান্স আনার নিয়ম পরিপালন, ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের অর্থ দ্রুত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে অনলাইন ব্যবস্থায় ফরম ‘সি’ গ্রহণ এবং আরটিজিএসের মাধ্যমে প্রাপক ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরের সুযোগ এবং অনলাইন পদ্ধতিতে ফরম ‘সি’-এর ঘোষণা গ্রহণে এ সংক্রান্ত অ্যাপ অতিসত্বর প্রস্তুতকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, সীমার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কোনো বিষয়ই নেই। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাংক এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে রেমিট্যান্সের সুবিধাভোগীদের ‘সি’ ফরমে ঘোষণা দিতে বাধ্য করছেন। এতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন গ্রাহকরা। তিনি আরও বলেন, ডলারের এই সংকটের সময়ে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের নিয়ম-কানুন যেখানে সহজ হওয়া দরকার, সেখানে ব্যাংকগুলো নিয়মের মধ্যে রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গ্রহণের নামে গ্রাহকদের হয়রানি করছেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। বিষয়টি ব্যাংকার্স সভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে সব ব্যাংকের এমডিদের বার্তা দেওয়া চেষ্টা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *