শ্রীপুরে পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

Slider বাংলার মুখোমুখি


আশরাফ হোসেন পল্টু, শ্রীপুর(মাগুরা)প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস,আই জামাল এর অমানুষিক নির্যাতনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওয়াপদা বাস কাউন্টারের কে. লাইন পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা আব্দুস সালাম (৪৫) এর করুণ মৃত্যু হয়েছে । নিহত ব্যক্তি নাকোল ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামের আছির উদ্দিনের পুত্র ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫’ টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রামের রাসেদ নামে এক ব্যক্তি ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওয়াপদা বাসস্ট্যান্ডে যায়। এসময় কে. লাইন পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা আব্দুস সালামের সাথে তার টিকিটের দড়কষাকষি নিয়ে বাক-বিতন্ডার একপর্যায় উভয়ের মাঝে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে ভূল বুঝাবূঝির ওই বিষয়টি মিমাংশিতও হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ওই যাত্রী পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আইনগত সহায়তা চায়। ৯৯৯ ফোনের সূত্রধরে নাকোল ক্যাম্পের ইনচার্জ এস,আই জামাল দ্রুত ছুটে যান ঘটনাস্থল ওয়াপদা স্ট্যান্ডের বাস কাউন্টারে। ওখানে গিয়ে তিনি মুহুর্তের মধ্যে টিকিট বিক্রেতা আব্দুস সালামকে আটক করে প্রাথমিক মারধর করেন। পরবর্তিতে হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে নাকোল ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ২য় বারের মতো আবারও বেধড়ক মারপিট করেন । পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনে আব্দুস সালাম অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে দ্র্রুত চিকিৎসার জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু বিধি হলো বাম, হাসপাতালে পৌছানোর আগেই পথিমধ্যেই ওইদিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু ঘটে । মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন ,আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খি ও এলাকাবাসীসহ শত শত লোক মুহুর্তের মধ্যে জড়ো হতে থাকে এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ওয়াপদা নামক ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপর বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন জ্বালিয়ে কয়েক ঘন্টা সড়কটি অবরুদ্ধ করে রাখে । এতে ঢাকা-খুলনা উভয় প্রান্তের শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী গাড়ী আটকে যায় । সংবাদ পেয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম ও মাগুরা পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাকোল ইউপি চেয়ারম্যান হুমাউনুর রশিদ মুহিত এর সহযোগিতায় স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে সড়কটি অবমুক্ত করা হয় ।

এবিষয়ে মাগুরা পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ নির্যাতিত মানুষের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অনাকাঙ্খিত ঘটনার সংবাদ শুনামাত্রই পুলিশ তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থ পরিদর্শন করেছে। এঘটনা সুষ্টু তদন্তের স্বার্থে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টীম গঠন করা হয়েছে। সেই সাথে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত এস,আই জামালকে ক্লোজ করা হয়েছে। এছাড়াও নির্যাতিতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করলেও করতে পারবেন । আইন , আইনের গতিতেই চলবে । পুলিশ হোক আর সাধারণ মানুষ হোক, আইন সবার জন্যই সমান । অভিযুক্ত এস,আই অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *