৭ প্রবাসীর ব্যাপক প্রচারণায় জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে নির্বাচনী আমেজ

Slider রাজনীতি সিলেট
103065
হাফিজুল ইসলাম লস্কর :: নির্বাচনের আগেই জকিগঞ্জ-কানাইঘাট এই দুই উপজেলায় জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারনা। সর্বত্র বইছে নির্বাচনী আমেজ, আর এ নির্বাচন নির্বাচন ভাবের মুল হল সাত প্রবাসীর প্রচারনা। মুলত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর নির্বাচনের পুর্বেই সাত প্রবাসীর নির্বাচনী প্রচারনায় এখন থেকেই জকিগঞ্জ-কানাইঘাট সংসদীয় আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী বাতাস বইতে শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনের একবছর আগেই প্রবাসী প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। নিয়মিত সভা সমাবেশে উপস্থিতি ও নেতাকর্মীদের সাথে রাখছেন নিয়মিত যোগাযোগ।
সিলেট-৫ আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ৭ নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে ও নির্বাচন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা সমালোচনা।
সিলেট ৫ সংসদীয় আসন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিনও যুক্তরাজ্য প্রবাসী। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি দেশে ফিরে জাতীয় পার্টির টিকেটে এমপি নির্বাচিত হয়ে বিরোধী দলীয় হুইপ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
এ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করে নেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি এ আসনের ফ্যাক্টর প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এখন থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা সভা সমাবেশে আবারো এ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে সেলিম উদ্দিনের কাছে দাবী জানাচ্ছে। ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে রয়েছে তাঁর ব্যাপক সুনাম। সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মুখে সেলিম উদ্দিন এমপির গুনগানই বেশী। তবে জানাগেছে সেলিম উদ্দিন এমপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনের পাশাপাশি তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৬ আসনেও টিকেটে চাইবেন।
সেলিম উদ্দিন এমপি বলেন, আমার বিগত দিনের উন্নয়নকে মূল্যায়ন করে জনগন যদি আবারো এ আসনে আমাকে চান তাহলে আমি নির্বাচন করবো। আমি এ আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার পরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে গ্রামেগঞ্জে। এ কারণে ভোটারগণ দাবী জানাচ্ছেন আবারো এ আসনে প্রার্থী হতে। জনগনের মতামতের উপরই আমার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।
এদিকে জাতীয় পাটি থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের টিকেট প্রত্যাশী জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ফ্রান্স প্রবাসী সাব্বির আহমদ। র্দীঘদিন থেকে তিনি দেশে সময় দিচ্ছেন। লক্ষ সংসদ নির্বাচন।
২০০৯ সালে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ত্যাগ করে জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি আবারো তৎপর হয়ে উঠেছেন। হাইকমান্ডে ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে রয়েছে নিয়মিত যোগাযোগ। আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে রয়েছেন।
সাব্বির আহমদ জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ ত্যাগ করে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছিলাম। এ কারণে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা আমার উপর হামলা চালিয়ে দুটি গাড়ী পুড়িয়েছে। বাসায় বোমা মেরেছে। আমি খুবই নির্যাতিত হয়েছি। এরপর আবার দলীয় চেয়ারম্যান হোসাইন মো. এরশাদের নির্দেশে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
জাতীয় পার্টির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী এম জাকির হোসাইন যুক্তরাজ্যের খেতাবপ্রাপ্ত তরুন শিল্পপতি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি ছিলেন। পার্টির জন্য রয়েছে তাঁর অনেক ত্যাগ। রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের কাছে রয়েছে ব্যাপক সুনাম। কর্মী দরদী নেতা হিসেবে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি সংক্ষিপ্ত সফরে দেশে আসলে নেতাকর্মীরা মোটর শোভাযাত্রা ও শতাধিক গেইট, তুরণ নির্মাণ করে তাঁকে স্বাগত জানায়। নেতাকর্মীরা তাঁকে কাছে পেয়ে তখন এ আসনে প্রার্থী হওয়ার দাবী জানিয়েছে। তিনি নির্বাচনী এলাকায় সংক্ষিপ্ত সফরের পর থেকে তাঁকে নিয়ে চলছে হিসাব নিকাশ। এম জাকির হোসাইন সংক্ষিপ্ত সফরে নেতাকর্মীদের মন জয় করে ভালোবাসা নিয়েই প্রবাসে ফিরেছেন বলে অনেকের ধারণা।
জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ এম জাকির হোসাইনকে প্রার্থী দিতে র্দীঘদিন থেকে হাইকমান্ডের কাছে দাবী জানিয়ে আসছে।
জাকির হোসাইন জানান, তিনি ছাত্র সমাজের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। অতীতে সাংগঠনিক ত্যাগের কারণে নেতাকর্মীরা তাঁকে প্রার্থী হতে দাবী জানাচ্ছে। এরশাদ মুক্তি আন্দোলনে গিয়ে হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। দল তাঁকে প্রার্থী দিলে নির্বাচন করবেন। নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
একাদশ সাংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মনোয়ন প্রত্যাশী কুয়েত প্রবাসী ও বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্ঠা আব্দুল মুমিন চৌধুরী। তিনি র্দীঘদিন থেকে দলীয় প্রার্থী হয়ে এ আসনে ভোট যুদ্ধ করতে প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত সভা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছেন। প্রবাস ছেড়ে ভোটার এলাকার মানুষের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরীর চেষ্ঠায় আছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রে শক্ত লবিংও চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ সভানেত্রেীর সিদ্ধান্তই হবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এমনটাই নেতাকর্মীদের ধারণা।
আব্দুল মুমিন চৌধুরী বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর থেকে মাঠে কাজ করছি। নিয়মিত দেশে নেতাকর্মীদেরকে সময় দিয়ে যাচ্ছি। দলীয় কোন্দল নিরসন করতে চেষ্ঠা করছি। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করে বিজয়ী হবো।
এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণ নিয়ে এখনো দলীয় কোন সিগন্যাল পাননি নেতাকর্মীরা। এরপরও তৃণমূলে চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। এ আসনে বিএনপির প্রবাসী নেতারা দলীয় টিকেট পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রবাসে বসেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। দলীয় সভা সমাবেশে নেতাকর্মীদের পাশে থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা।
বিএনপির টিকেট প্রত্যাশী প্রবাসী নেতারা হলেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মামুনুর রশীদ মামুন (চাকসু), জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শরিফ লস্কর, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন।
নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, চাকুস মামুন ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই বিএনপির রাজনীতিতে এসেছেন। বিগত সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। নির্বাচনী এলাকার দলীয় বিশাল একটি অংশ চাকসু মামুনের অনুসারী। দশম সংসদ নির্বাচনে চাকুস মামুনের দলীয় প্রার্থীতা অনেকটা নিশ্চিত ছিলো। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের টিকেটে প্রার্থী হবেন এমনটা নিশ্চিত নেতাকর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শরিফ লস্কর ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও সেখান থেকে তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। দলের মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচন করতে হাইকমান্ডেও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে শরিফ লস্করের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জাকির হোসেন সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির সভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় টিকেটে নির্বাচন করতে জোর লবিং করেছেন। এবারও তিনি বসে নেই। প্রবাস থেকে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি অনেকটা অপরিচিত। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর তেমন কর্তৃত্ব নেই বলে নেতাকর্মীরা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *