ডক্টর কামালেরপ্রশ্ন নিবা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিতরা জনপ্রতিনিধি!

Slider গ্রাম বাংলা জাতীয় টপ নিউজ ঢাকা রাজনীতি সারাদেশ সারাবিশ্ব

high_sm1
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
গ্রাম বাংলা নিউজ২৪.কম
ঢাকা: সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। সংবিধানের মূলনীতি গণতন্ত্র। সংবিধানে বলা আছে, জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। সংবিধান অনুযায়ী জনগণের পক্ষে ক্ষমতার প্রয়োগ করবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরকে কি জনপ্রতিনিধি বলা যাবে?

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নিয়ে করা এক রিটের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে পরামর্শদানকারী) হিসেবে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম খানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি ৪ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেন।

ড. কামাল বলেন, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে এবং জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন, এ বিষয়গুলো সংবিধানেই বলা আছে। এ বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন বুঝতে হবে, হোয়াট ইজ ইলেকশন (নির্বাচন কি)? জনপ্রতিনিধিরা (সংসদ সদস্য) কিভাবে নির্বাচিত হবেন?

তিনি বলেন, তারা জনগণের ইচ্ছানুযায়ী/ পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচিত হবেন। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ শতাংশ জনগণকেও ভোট দিতে হয়নি। মেজরিটি হয়েছেন অনির্বাচিত। ১৫৩ আসনে একটি ভোটও দিতে হয়নি। কিন্তু সংবিধান বলছে, জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ হতে হবে।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। তবে ওখানে যদি সমঝোতা হয়। সকল দলকে সমভাবে গুরুত্ব না দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের করণীয় কি ছিল? কিন্ত প্রথম থেকেই সেই ভূমিকা কী পালন করেছে? সরকার বললো, তৈরি থাকো। কেউ অংশ নিল কি না নিল, সেটা দেখল না। এটা কি নিরপেক্ষতা?

নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন এই সংবিধান প্রণেতা।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার বিধান সম্বলিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালাম রিট আবেদনটি করেন। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা কেন সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

এ রুলের শুনানির জন্য আদালত সাতজনকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন আদালত। তারা হলেন, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *