নিবন্ধন রাখতে নির্বাচনে আসা উচিত বিএনপিরঃ কাদের

Slider রাজনীতি সামাজিক যোগাযোগ সঙ্গী

images

 

 

 

 

সংবিধানের বাইরে না গেলেও নিবন্ধন হারানোর ভয়ে বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে—এমন ঝুঁকি নিয়ে বোকার মতো নির্বাচনে বিএনপি না আসার সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমার মনে হয় না।’
আজ শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না, দলটির নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সময় এবং স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তেমনি সংবিধান ও নির্বাচন কারোর জন্য অপেক্ষা করবে না। এবারও যদি কেউ না আসে; তবে না আসার কোনো কারণ নেই।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিএনপির অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ আছে কি না—সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিএনপির অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ আছে কি না, এটা হলো আমার প্রথম প্রশ্ন। সংবিধানে না থাকলে এই সুযোগ আমি কীভাবে দেব।’
দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে তৃণমূলে একটি ‘সার্কুলার’ গেছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। দলের মধ্যে কলহ-কোন্দল চলবে না। জনগণের অগ্রহণযোগ্য কোনো কাজ করা যাবে না। জন-অসন্তোষ সৃষ্টি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারবে না। দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি, দলের নিম্নতম শাখার কেউ অপরাধী হলে সরাসরি বহিষ্কার করা যাবে না। কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানাতে হবে, এই কারণে একে বহিষ্কার করা উচিত। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী কমিটি এটা চূড়ান্ত করবে।’
নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের বিষয়ে বিএনপির দাবি নিয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধানে সহায়ক সরকারের কোনো বিধান নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিধান রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করার ব্যাপারে তো আমাদের কোনো আপত্তি নেই। গতবারও নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল। পৃথিবীর সব উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে। ওই সময় শুধু সরকার দৈনন্দিন কাজ করবে। বাস্তবে তখন একটা হাত-পা বাঁধা সরকার ক্ষমতায় থাকবে। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, সরকারের অধীনে নয়।’
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আফজল খান এবং আ ক ম বাহারউদ্দিনের দ্বন্দ্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের দ্বন্দ্বটা কি কুমিল্লার চেয়ে তীব্র ছিল? তো, এটা আমরা মিটিয়ে ফেলেছি না? নির্বাচনের দিন একযোগে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনেনি? নারায়ণগঞ্জে যেটা সম্ভব হয়েছে, কুমিল্লাতেও সেটা সম্ভব। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেখানে লড়ব।’
এর আগে মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আশরাফুন্নেসা মোশাররফ কাল সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলনের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারী অগ্রযাত্রার আরেকটি মাইলফলক রচিত হবে।’ আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খান, সহসভাপতি খালেদা খানম, ফরিদা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা বেগম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *