দুই লাখ টাকা বেতনের চাকরি, আবেদন পড়লো একটিই

Slider অর্থ ও বাণিজ্য

 

2016_01_14_21_01_11_9r1uccbyKmORLedmQfiIJOoFGX4i0u_original

 

 

 

 

 

ঢাকা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক চুক্তিভিত্তিকভাবে এক বছরের জন্য গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক (এক্স ক্যাডার-প্রটোকল) পদে নিয়োগের জন্য ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। ওই পদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ছিল চলতি মাসের ১০ তারিখ। দুই লাখ টাকা বেতনের আকর্ষণীয় এ চাকরিতে দরখাস্ত আহ্বান করা হলেও সেখানে একটিই মাত্র আবেদন পড়েছে।

ব্যাংক সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, যে আবেদনটি জমা পড়েছে তা একই পদে বর্তমানে চাকরিরত মহাব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামানের। অবশ্য তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় নিয়োগ প্রদান করার জন্য বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি পাস করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সার্কুলারটি এমনভাবে দেয়া হয়েছে যেন উল্লিখিত কর্মকর্তা ছাড়া আর কেউই এতে আবেদন করতে না পারেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা বেধে দেয়া হয়েছিল ৫৫-৬০ বছর। অভিজ্ঞতায় গিয়ে বলা হয়েছিল- সরকারি বা বেসরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বা কোনো সংস্থায় ২৫ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা। সঙ্গে প্রটোকল অফিসার হিসেবে ১০ বছরের প্রায়োগিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারণ, স্বাভাবিকভাবে একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন চাকরি করে মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। আর এই পদটিতে যারা পদোন্নতি পান তারা তাদের মেধা ও দক্ষতার কারণেই পান। একজন চলে গেলে সেই জায়গায় তার নিচের পদের যোগ্য কর্মকর্তাটিকেই পদোন্নতি প্রদান করা হয়। কিন্তু সেখানে যদি কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয় তাহলে সেই পদের পরবর্তী যোগ্য কর্মকর্তাটি বঞ্চিত হন।

বিষয়টি যখন বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হয় তখন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স কাউন্সিল ক্ষোভ প্রকাশ করে গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে একটি চিঠিও দেয়। কিন্তু তা আমলে নেয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর চাকরি করে যখন মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পাবো ঠিক তখনই যদি কাউকে সেখানে চুক্তিতে আনা হয়, তাহলে একজন সেন্ট্রাল ব্যাংকার হিসেবে নিজেকে মেধাহীন মনে হয়। তার মানে কি এখানে মেধাবীরা কাজ করছে না?’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক পদের বিপরীতে বেশ কিছু কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কাজ করে যাচ্ছেন। যাদের বেতন সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রটোকলের মহাব্যবস্থাপক যাকে নিয়োগ দেয়া হবে তার বেতন উল্লেখ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা। অন্য যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- এসএসই বিভাগে উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত সুকোমল সিংহ চৌধুরী; যার বেতন ২ লাখ টাকা, চিকিৎসা কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাক হিসেবে চুক্তিভিত্তিকভাবে একাধিকবার নিয়োগ পাওয়া ড. মিহির কান্তি চক্রবর্তী; যার বেতন ২ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের চুক্তিভিত্তিক মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত দেবপ্রসাদ দেবনাথ। দেবপ্রসাদের বেতনও দুই লাখ টাকা।

অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক পদে চাকরিরত অবস্থায় ৮ম জাতীয় পে-স্কেলে যারা কাজ করছেন তাদের বেতন গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৭ হাজার টাকার আশপাশে; যা আগের স্কেলে ছিল ৪৫ হাজার টাকার মতো। সুতরাং একই জায়গায় দ্বিগুনেরও বেশি টাকা দিয়ে যাদের আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে বা হচ্ছে তারা সবাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই সাবেক কর্মকর্তা। এতে করে কর্মকর্তারা মনে করছেন, একই কাজের জন্য বেশি অর্থ দিয়ে লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, অন্যদের পদবঞ্চনা ও কর্মকর্তাদের মেধার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

তবে গভর্নর সবসময়ই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মেধাবীদের মিলনমেলা হিসেবে দাবি করেন। তিনি নিজে এ দাবি করেন আবার নিজেই সেটার অবমূল্যায়ন করছেন বলেও অভিযোগ কর্মকর্তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *