দুপুরের আগেই স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে মিধিলি

Slider কৃষি, পরিবেশ ও প্রকৃতি


ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলির’ বেশিভাগ অংশ আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার আগেই স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুপুর ৩টার পরে ঘূর্ণিঝড়ের কোন অংশ সমুদ্রের উপর না থাকার সম্ভাবনা বেশি। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় এমন পূর্বভাস দিয়েছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।

এর আগে পলাশ জানিয়েছিলেন যে আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে মিধিলি বরিশাল ও খুলনা বিভাগে আঘাত হানবে।

কানাডার সাসকচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক জানিয়েছেন, বর্তমানে যে পথে ঘূর্ণিঝড়টি অগ্রসর হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে প্রায় ৯০ ভাগ নিশ্চয়তায় পূর্বাভাস দেয়া যায় যে গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্র বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে সরাসরি অতিক্রম করবে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির বাম পাশের অংশ খুলনা বিভাগের বাগেরহাট এবং খুলনা জেলার ওপর দিয়ে এবং ডান পাশের অংশটি নোয়াখালী, ফেনী এবং উত্তর চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বরিশাল বিভাগের বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে স্থলভাবে প্রবেশ করার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, গভীর নিম্নচাপটি আরো কিছুটা ঘনীভূত হয়েছে। সেক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার থাকতে পারে।

বজলুর রশিদ আরো জানান, আগামীকাল শুক্রবার দুপুরের পর এটি বাংলাদেশের উপকূলের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে, এটি দুর্বল হওয়ায় সময়ের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। সাধারণত দুর্বল ঘূর্ণিঝড়গুলো কিছুটা অনিশ্চিত আচরণ করে। উপকূলের কাছাকাছি এসে এটি দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপেও পরিণত হতে পারে।

অন্যদিকে কামাল জানান, জাপানের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে পাওয়া সর্বশেষ চিত্র ও তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে মিধিলি খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর ওপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এবং বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড়টির নাম মিধিলি। এ নামটি মালদ্বীপের দেয়া।

গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে বাংলাদেশে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টিপাতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হচ্ছে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *