সীমান্তে ৩ লাখ সৈন্য, গাজায় ঢুকবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী?

Slider সারাবিশ্ব


ইসরাইল গাজা সীমান্তে তিন লাখ সৈন্য সমবেত করেছে। শনিবার ইসরাইলের ভেতরে গাজাভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সদস্যরা প্রবেশ করার পর তারা কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তম সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠেছে, ইসরাইল কি গাজা উপত্যকায় প্রবেশের পরিকল্পনা করছে? ইসরাইল অবশ্য শনিবার থেকেই গাজায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসরাইলের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি নিশ্চিত করেছেন যে সামরিক বাহিনী তিন লাখ রিজাভিস্টকে তলব করেছে। সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে সরকারি কোনো ভাষ্য না পাওয়া গেলেও অনেক নেটিজেন অনুমান করছেন যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সত্যিই গাজায় প্রবেশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধের পর এটাই ইসরাইলের বৃহত্তম সৈন্য সমাবেশ। ওই সময় চার লাখ রিজার্ভিস্টকে সমবেত করেছিল ইসরাইল।

এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ এর মুখপাত্র রিচার্ড হেখট বলেছেন, সামরিক বাহিনী ‘ভবিষ্যত অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করছে’ এবং গাজা সীমান্তে ৩৫টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে।

একটি ব্যাটালিয়ন সাধারণত শত শত সৈন্য নিয়ে গঠিত হয়।

ইসরাইলি সৈন্য সমাবেত করার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইসরাইল এই যুদ্ধ শুরু না করলেও তারা এটা শেষ করবে।’ তার এই বক্তব্যে গাজায় স্থলবাহিনী প্রবেশের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।

অধিকন্তু নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি উগ্রবাদীদের গোপন আস্তানাগুলো ‘ধ্বংস্তুপে’ পরিণত করবেন।

আজ মঙ্গলবার ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা গাজা সীমান্তের কাছে সকল ইসরাইলি সম্প্রদায়ের অপসারণ কাজ শুরু করেছি। আমরা ট্যাংক, হেলিকপ্টার, বিমানের একটি লৌহপ্রাচীর গড়ে তুলেছি।

গাজায় ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৭০ জন নিহত এবং চার হাজার আহত হয়েছে। আর ইসরাইলে হামাসের হামলায় অন্তত ৯০০ নিহত হয়েছে।

হামাস ইতোপূর্বে ঘোষণা দিয়েছে, ইসরাইল যদি আগাম সতর্কতা না জানিয়ে হামলা করে, তবে প্রতিটি হামলার জবাবে একজন করে যুদ্ধবন্ধীকে হত্যা করা হবে। হামাস ও ইসলামিক জিহাদ ইসরাইল থেকে প্রায় ১৩০ জনকে বন্দী করে এনেছে।

সূত্র : আল জাজিরা, বিবিসি এবং অন্যান্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *