৭২৭ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে মায়ানমার নৌবাহিনী!

Slider সারাবিশ্ব

myanmar_sm_524345791

ঢাকা: পাচারের শিকার হওয়া ৭২৭ অভিবাসীবাহী একটি নৌকাকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের জলসীমায় ঠেলে দিচ্ছে মায়ানমারের নৌবাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (০২ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটির আরোহীরা মানব পাচারের শিকার হওয়া মায়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু। অভিবাসীবাহী নৌকাটিকে বাংলাদেশি জলসীমায় ঢোকানোর সময় বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নৌবাহিনী যেন বাধা দিতে না পারে সেজন্য নৌকাটিকে বর্তমানে পাহারা দিচ্ছে মায়ানমার নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ।

নৌকাটিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অজুহাত হিসেবে মায়ানমারের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র ইয়ে এইচতুত দাবি করেন, গত শুক্রবার (২৯ মে) এই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়। তারা মায়ানমারে থাকার চেয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারেই বেশি আগ্রহী ছিল। এ কারণে তাদের নৌবাহিনী বাংলাদেশি জলসীমায় নৌকাটিকে ফেরত পাঠাতে সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি জলসীমা পর্যন্ত তাদেরকে নিরাপত্তা দেবে মায়ানমারের নৌবাহিনী।

তবে এই অভিবাসীদের কোত্থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি ইয়ে এইচতুত।

ধারণা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহে সমুদ্র থেকে উদ্ধারের পর মায়ানমারের থামী লা দ্বীপে রাখা সাতশ‘ ২৭ অভিবাসীকে বাংলাদেশি জলসীমায় ঠেলে দিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ওই অভিবাসীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের কথা বলতে দেয়নি দেশটির সরকার। এমনকি থামী লা দ্বীপেও তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। যে সকল সাংবাদিক বাধা উপেক্ষা করে ছোট নৌকায় করে থামী লা দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে মায়ানমার নৌবাহিনীর সদস্যরা। সেই সঙ্গে ক্যামেরায় কোনো ছবি বা ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে থাকলে, তা মুছে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয় এ সময়।

শুধু তাই নয় ‘আবার ওই দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে না’ এমন লিখিত বিবৃতিও এ সময় জোর করে সাংবাদিকদের থেকে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও প্রকাশ হয়, থামী লা দ্বীপে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মায়ানমার সরকার এই ঘটনা লুকিয়ে রাখতেই সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু সাংবাদিকই নয়, এখন পর্যন্ত ওই দ্বীপে রাখা অভিবাসীদের সঙ্গে কোনো মানবাধিকার সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার কোনো কর্মীকেই সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

এ সব থেকেই ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো অভিবাসীরা আসলে রোহিঙ্গা। বিষয়টিকে গোপন রাখতেই থামী লা দ্বীপে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়ার ব্যাপারে এত বিধিনিষেধ আরোপ করে মায়ানমার সরকার।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গারা ‍মায়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। দেশটির জন্মলগ্ন থেকেই সংখ্যালঘু ১৩ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম দেশটির সরকার ও সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনসাধারণের হাতে অব্যাহতভাবে নির্যাতন ও নিষ্পেষণের শিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *