চীনা ঠিকাদারের গাফিলতিসহ ১২ কারণ ‘চিহ্নিত’

Slider জাতীয়


নিয়ম অমান্য করে দিনের বেলায় চলছিল বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডার তোলার কাজ। রাজধানীর উত্তরায় গার্ডার দুর্ঘটনার ১৯ দিন পর চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

অসমতল জায়গায় ক্রেন রাখা, সেটির ডিজিটাল মনিটর না থাকাসহ ১২ কারণ চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত প্রতিবেদনে ১৪টি সুপারিশ করা হয়।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার চাপায় নিহত হন প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার ২০ দিনের মাথায় রোববার (০৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

রাতে কাজ করার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা অমান্য করে দিনের বেলায় কাজ করা, ছুটির দিনে কাজের সময় ক্রেনটি অসমতল জায়গায় রাখা, ক্রেনটির ডিজিটাল মনিটর না থাকাসহ দুর্ঘটনার জন্য ১২টি কারণ চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কার্যক্রমের সার্বিক পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শেষে দেখা যায় যে, ১৫ আগস্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যত্যয়ের কারণে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিজিজিসি প্রধানত দায়ী। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের সিজিজিসির অবহেলার কারণেই উত্তরায় গার্ডার দুর্ঘটনা ঘটে।

গত ১৫ আগস্ট বিকেলে ঢাকার উত্তরায় জসীম উদ্দীন সড়কের মাথায় প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে ক্রেন দিয়ে একটি গার্ডার তোলার সময় তা একটি প্রাইভেটকারের ওপর পড়লে এক পরিবারের পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন গাড়িতে থাকা আরও দুজন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পটির ওই অংশের ঠিকাদার চায়না গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশন (সিজিজিসি)। এ প্রকল্পে যথেষ্ট নিরাপত্তার বন্দোবস্ত না করে কাজের অভিযোগ আগে থেকে ছিল। প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, নিরাপত্তার অবহেলার বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হলেও তারা গা করেনি। পাঁচজনের মৃত্যুর পর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আখতারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রাথমিক তদন্তেই ঠিকাদারের গাফিলতি পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।

সচিব বলেন, তদন্ত কমিটি ১৬ আগস্ট প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায় চিহ্নিত হয়। পরবর্তীতে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। তাতে এ দুর্ঘটনার জন্য ১২টি কারণ চিহ্নিত করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে: পূর্বানুমতি ছাড়া জাতীয় শোক দিবসে সরকারি ছুটির দিনে কাজ করা হয়েছিল; প্রথমবারের মতো দিনের বেলায় গার্ডার স্থানান্তরের কাজ চলছিল; ক্রেনটি সহকারী অপারেটর/ হেলপার চালাচ্ছিলেন, যার লাইসেন্স ছিল না; দুর্ঘটনার সময় ক্রেনের অবস্থান ছিল অসমতলে; ক্রেনটির ডিজিটাল মনিটর ছিল না; সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ছিল না; ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কর্মীদের যোগ্যতা ছিল না; সেইফটি ইঞ্জিনিয়ারের যোগ্যতা না থাকা, ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ছিল না, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়োগের অনুমোদন না থাকা।

পাশাপাশি এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত প্রতিবেদনে ১৪টি সুপারিশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *